সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় থানায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— ১) আব্দুর রশিদ (৪৯), পিতা- মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সাং-সোহাগপুর
২) মোঃ হাবিবুর রহমান (৪২), পিতা- আব্দুল জব্বার টিপু, সাং-বাউড়া
৩) মোঃ মহিদুল ইসলাম (৩০), পিতা- আজিজুল ইসলাম, সাং-রহমানপুর মেসিরপাড়
৪) আবুল কালাম (৫২), পিতা- মৃত মাহাতাব হোসেন, সাং-সোহাগপুর।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২ জুলাই (বুধবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২০০-২৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পাটগ্রাম থানায় হঠাৎ হামলা চালায়।
হামলাকারীরা থানার চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। তারা জানালায় ইট-পাটকেল ছুড়ে কাঁচ ও দরজা ভেঙে ফেলে। পুলিশের বাধা পেয়ে শুরু হয় সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে।
এই হামলার সময় দুর্বৃত্তরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি—বেলাল ও সোহেলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ অন্তত ২৩ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের অবাজার এলাকায় চাঁদাবাজির সময় বেলাল ও সোহেলকে হাতেনাতে আটক করে মোবাইল কোর্ট। ইউএনও উত্তম কুমার দাস তাদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন এবং জানান, তাদের কাছ থেকে ১ লাখ টাকার বেশি রিসিভ মানি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ দাবি করেছে, হামলায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়িত। তবে পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সোহেল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি বা আমার কোনো নেতাকর্মী এই হামলায় জড়িত নই। আটক ব্যক্তিরাও বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।”
এ ঘটনার পর পাটগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনা হবে।