ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবের দক্ষিণে রেহোভত শহরে অবস্থিত ইসরাইলের বিখ্যাত সামরিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র ভাইসমান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের সরকারি চ্যানেল প্রেস টিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এই প্রতিষ্ঠানটিকে ইরান নিশানা করেছিল পদার্থবিদ্যা, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চিকিৎসা গবেষণার সামরিক প্রয়োগে ইসরাইলের মূল কেন্দ্র হিসেবে ধ্বংস করতে।
ইসরাইলি টিভি চ্যানেল ১৩–এর বরাতে জানা গেছে, এটি কোনো ‘ভুল করে’ হওয়া হামলা নয়, বরং অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট টার্গেটিংয়ের ফল। ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট আলোন চেন স্বীকার করেছেন যে, ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোয় আঘাত করেছে, যার ফলে ৩০০–৫৭০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে এবং বেশিরভাগ ল্যাব অপারেশন অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে যাতে ইরান আবার আঘাতের সুযোগ না পায়। হামলায় নবনির্মিত রাসায়নিক ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণাগার প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। জীবন ও গণনামূলক বিজ্ঞানভিত্তিক ভবনগুলোও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ক্যানসার ও কোষ পুনরুৎপাদনের ওষুধসহ গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চলছিল।
সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে অধ্যাপক এলদাদ জাহরের ‘কার্ডিয়াক রিজেনারেশন’ ল্যাবে—তার ২২ বছরের গবেষণার টিস্যু স্যাম্পল, ডিএনএ, আরএনএ, অ্যান্টিবডি, ভাইরাস নমুনা সবই ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৪৫টি ল্যাব বিধ্বস্ত হয়ে ৪০০–৫০০ গবেষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস ভবনও ক্ষেপণাস্ত্রের শকওয়েভে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়েছে। প্রেস টিভি দাবি করছে, ইনস্টিটিউটের ৯০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ইসরাইলের সামরিক গবেষণার জন্য বড় ধাক্কা।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?