সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের মোগলহাট সীমান্তে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ভারতীয় নাগরিককে অবৈধভাবে ঢুকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করেন। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পরই ভারতীয়দের একদল সীমান্ত পেরিয়ে এসে বাংলাদেশি এক যুবককে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাতে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকে পরস্পরের নাগরিকদের হস্তান্তর করা হয়।
বিকালে মোগলহাট সীমান্তের কুমারটারী এলাকার ৯২৭ নম্বর মেইন পিলারের তিন নম্বর সাব-পিলারের পাশ দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার নাগরটারী দরিবাস এলাকার মৃত ফয়জার রহমানের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে বিজিবির মোগলহাট কোম্পানি ক্যাম্পে হস্তান্তর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আমিনুল বাংলাদেশে প্রবেশ করতেই স্থানীয়দের নজরে আসেন। খবর পেয়ে বিজিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
আমিনুলের পরিবারের লোকজন ও আশেপাশের অন্যান্য ভারতীয় নাগরিকরা এরপর সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়ে চিৎকার-শোরগোল শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে প্রায় ৫০০ গজ ঢুকে যান এবং সিরাজুল হক ওরফে মান্নান (৩২) নামের এক বাংলাদেশি যুবককে তুলে নিয়ে যান।
সিরাজুল হক লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের কুমারটারী তেঁতুলতলা গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে। ওই সময় তিনি গরু চরাচ্ছিলেন।
বিজিবি লালমনিরহাট ১৫ মোগলহাট ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার সাঈদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিজিবি আমিনুল ইসলামকে ভারতীয় পক্ষের হাতে হস্তান্তর করে। আবার ভারতীয় পক্ষ সিরাজুল হককে বিজিবির হাতে ফিরিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার দাবি জানানো হয়েছে।