মনিরুল ইসলাম ডাবলু,নাটোর প্রতিনিধিঃ
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক অনন্য সাফল্যের গল্প রচনা হলো নাটোরের বুকে।
১৮ জুন নাটোর সদর উপজেলার আলাইপুর সুইপার কলোনি—যেখানে মাদকের অবাধ বিস্তার একসময় মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল, সেই কলোনিতেই এবার রচিত হলো ইতিহাস।
সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও ভয়হীন উপস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। শেষ পর্যন্ত, সেই ভয়কে জয় করে আত্মসমর্পণ করলো ১৪ কুখ্যাত মাদক কারবারি।
দীর্ঘদিন ধরে আলাইপুর সুইপার কলোনিতে প্রকাশ্যে চলছিল হেরোইন, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের বেচাকেনা। মাদকাসক্তদের আনাগোনা, অপরাধের বিস্তার এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি এলাকাবাসীর জীবনে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনে মাঠে নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শৃঙ্খলা ও সাহসের প্রতীক সেনাসদস্যরা একের পর এক সফল অভিযান চালাতে থাকেন। দিনের আলো হোক বা রাতের নিস্তব্ধতা—সেনাবাহিনী ছিল সর্বক্ষণ প্রস্তুত।
অবশেষে, নিজেদের ভবিষ্যৎ ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সেনা ক্যাম্পে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে ১৪ জন মাদক ব্যবসায়ী। তারা প্রতিশ্রুতি দেন—অতীত ভুলে নতুন জীবন শুরু করার।
আত্মসমর্পণকারী আসমীরা হলেন, মানিক জামাদারের ছেলে শুভ জমাদার, শুকচানের ছেলে বিপ্লব জমাদার, জগদীশের ছেলে কাজল জমাদার,
শুকচানের ছেলে ছট্রু জমাদার, স্বাধীনের ছেলে আশিক জামার, মৃত রনজিতের ছেলে ভক্কু জমাদার, মৃত দিপুর ছেলে মুকেশ জমাদার, যোদ্ধার ছেলে সজল জমাদার, মৃত চুনিলালের ছেলে তপন,
মৃত ঝন্টুর ছেলে মিলন, মৃত স্বপনের ছেলে শিপন,
মৃত আলুয়ার ছেলে ডেনু, আনন্দর ছেলে মিন্টু, দ্বিপক জমাদারসহ আরো অনেকেই।
সেনাবাহিনী শুধু সীমান্ত রক্ষা করে না, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া মাদক নামক ব্যাধিকেও নির্মূল করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বদ্ধ।