ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব তীব্র ভাষায় অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকায় বসে বক্তৃতা দেবে, আর জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের কৃতিত্ব ছিনিয়ে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, এনসিপি যেভাবে বলছে তারা ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় না, কিংবা যেসব কথাবার্তা ছড়াচ্ছে, তা তাদের সরাসরি ষড়যন্ত্রমূলক ভূমিকারই ইঙ্গিত দেয়। এর সঙ্গে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী—এই দুটি দল মিলে দেশকে আবার অস্থিরতা ও বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
রবিবার (৮ জুন) নিজ এলাকা ময়মনসিংহে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাকিবুল এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা একেবারেই দায়িত্বহীন আচরণ করেছেন। আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর যে প্রাথমিক ও প্রধান কাজটি হওয়া উচিত ছিল—তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো—সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। বিশেষ করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার না করাকে রাকিবুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পরেও শুধু নামমাত্র একটি তালিকা প্রকাশ করে উপদেষ্টারা দায়িত্ব শেষ করেছেন। গত ১৫ বছর ধরে যারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে, ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছে, হত্যার রাজনীতি চালিয়েছে, সেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এই উপদেষ্টারা কিসের সংস্কার করছেন? কীসের সরকার পরিচালনা করছেন?
রাকিবুল ইসলাম বলেন, যারা বলে এপ্রিল মাসে নির্বাচন দেবে, তারা আসলে গণমানুষের বাস্তবতা বোঝে না। এপ্রিল মাসে রোজা থাকবে, ঈদের ঠিক পরপরই নির্বাচনী প্রচার চালাতে হবে—এটা কোন বিবেচনায় যৌক্তিক? এই অদ্ভুত ধারণা আসলে আসে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকারীদের মাথা থেকে।
তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশন নেই, মাঠে কর্মসূচি নেই, অথচ তারা নেতৃত্বে আসার স্বপ্ন দেখছে—এটাই বর্তমান সংকটের মূল। ছাত্রদলের মতো সংগঠন যেখানে শত শত নেতাকর্মী, বছরের পর বছর ত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে, সেখানে লোকদেখানো দু-একটি কর্মসূচি দিয়ে একটি অদৃশ্য চক্রান্তের বাহক দল কীভাবে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধি হতে চায়?
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ছাত্রদল এ ধরনের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করেছে এবং সময় হলে রাজনৈতিকভাবে তার জবাবও দেবে।