বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নিষিদ্ধ মাছের ‘স্বর্গদ্বার’ আমতলী পয়েন্ট প্রশাসনের ঢিলেঢালা তদারকিতে ফুলে-ফেঁপে উঠছে পাচারচক্র

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ বঙ্গোপসাগরের নিষিদ্ধ মাছ পরিবহনের নিরাপদ সড়ক আমতলী পয়েন্ট। ট্রাফিক, কোষ্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের ঢিলেঢালা নজরদারীর কারনে প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবহন গাড়ীতে অনায়াসে ঢাকায় মাছ যাচ্ছে। ফলে সাগরে সরকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ করলেও তা বন্ধ হচ্ছে না। দ্রত পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী পয়েন্টে ট্রাফিক, কোষ্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারী […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৫ মে ২০২৫, ২২:৪৭

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বঙ্গোপসাগরের নিষিদ্ধ মাছ পরিবহনের নিরাপদ সড়ক আমতলী পয়েন্ট। ট্রাফিক, কোষ্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের ঢিলেঢালা নজরদারীর কারনে প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবহন গাড়ীতে অনায়াসে ঢাকায় মাছ যাচ্ছে। ফলে সাগরে সরকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ করলেও তা বন্ধ হচ্ছে না।

দ্রত পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী পয়েন্টে ট্রাফিক, কোষ্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারী বৃদ্ধি এবং চেক পোষ্ট বসানোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। 

জানাগেছে, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন ৫৮ দিন সাগরে সকল ধরনের মাছ শিকার, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন সরকার। কিন্তু সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে উপকুলীয় অঞ্চল মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা, তালতলীর অসাধু ব্যবসায়ীরা উপজেলার মৎস্য বিভাগ, কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও প্রশাসন ম্যানেজ করে জেলেদের দিয়ে সাগরে মাছ শিকার করাচ্ছেন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

অসাধু ব্যবসায়ীরা কুয়াকাটা, কলাপাড়া, তালতলী ও ফকিরহাট বাস স্ট্যান্ডে ওই মাছ ডোলে করে ইসলাম, মিজান, আলিফ, অন্তরা, ইটালী, হাসান ও যমুনাসহ বিভিন্ন পরিবহন গাড়ীতে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা ও তালতলী এই তিন সড়কের মধ্যস্থান আমতলী চৌরাস্তা। ওই সকল সড়কের পরিবহনগুলো আমতলী হয়ে যেতে হয়।

আমতলী ছাড়া এ সকল পরিবহন গাড়ী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে দাবী করেন গাড়ী চালক নজরুল ইসলাম। প্রতিদিনই এ সড়ক হয়ে বঙ্গোপসাগরে নিষিদ্ধ শিকার করা মাছ পরিবহনে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে মাছ আহরনের পরিবহন গাড়ীগুলো আমতলী পয়েন্ট ত্যাগ করা শুরু করে, চলে গভীর রাত পর্যন্ত।\

ওই সময় সড়কে ট্রাফিক পুলিশ থাকার কথা থাকলেও কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তারা সড়কে থাকে না। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাফিক পুলিশ ম্যানেজ করে ব্যবসায়ীরা রাতে মাছ পরিবহনের গাড়ী গুলো আমতলী অতিক্রম করছে। ফলে অনায়াসে তারা আমতলী পয়েন্ট ত্যাগ করতে পারে। তবে এমন অভিযোগ ট্রাফিক বিভাগ অস্বীকার করছেন। মাঝে মধ্যে দুই একদিন মাছসহ পরিবহনগাড়ী প্রশাসনের কব্জায় ধরা পড়লেও তা অত্যান্ত প্রতুল বলে জানান রুবেল মিয়া।

এ সড়কে মাছ পরিবহন বন্ধ করতে হলে ট্রাফিক টহল, কোষ্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনকে সজাগ হতে হবে। মাছ আহরনের পরিবহন বন্ধ করতে না পারলে সাগরে মাছ শিকারও বন্ধ হবে না বলে আরো দাবী করেন তিনি।

অপর দিকে সাগরে মাছ শিকার নিষিদ্ধের ৩৮ দিন পেরিয়ে গেলেও আমতলী উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ তিন দিনে মাত্র তিনটি পরিবহন গাড়ী থেকে ৪১ মণ মাছ জব্দ করেছে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের কোন তৎপরতা নেই। অভিযোগ রয়েছে তালতলীর ফকিরহাটে কোষ্টগার্ডের ক্যাম্প।

তাদের সামনের সড়কে সাগর থেকে জেলেদের শিকার করা মাছ ব্যবসায়ীরা পরিবহন গাড়ীতে তুলে দিচ্ছেন কিন্তু তারা নির্ভিকার। আরো অভিযোগ রয়েছে কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও তালতলী উপজেলা মৎস্য বিভাগ ম্যানেজ করেই জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করছেন।

অপর দিকে তালতলী অফিসের সামনেই বাস স্ট্যান্ড। তাদের নাকের ডগায় ব্যবসায়ীরা পরিবহন গাড়ীতে মাছের ডোল তুললেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দ্রত

ত পটুয়াখালী, কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী পয়েন্টে চেকপোষ্ট বসিয়ে পরিবহন তল্লাশীর দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। 

জেলে সুলতান, রফেজ ও আবুল বাশার বলেন, ব্যবসায়ীরা মাছ শিকার করতে সাগরে পাঠায়, তাই সাগরে মাছ শিকার যাই। সাগরে কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ আমাদের মাছ শিকার করা দেখেও তো কিছুই বলে না। 

তালতলী নিদ্রাসকিনা কোষ্টগার্ড ষ্টেশনের ইনচার্জ সুজা উদ্দিন মাহমুদ এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ওই ষ্টেশনের গোয়েন্দা বিভাগের হাবিবুর রহমান বলেন, তথ্য পেলে আমরা সাগরে অভিযান পরিচালনা করি।

ফকিরহাটে যে মাছ উঠছে তা সাগরের মাছ নয়, নদীর মাছ। সাগরের মাছ পরিবহন গাড়ীতে আপনাদের সামনে থেকেই নিয়ে যাচ্ছে, আপনারা কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। ইনচার্জ সুজাউদ্দিন মাহমুদ স্যারে বলতে পারবেন। 

তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মখর্তা ভিক্টর বাইনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।  

আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ বলেন, গত মাসের আইন শৃংখলা সভায় সাগরে মাছ শিকার নিষিদ্ধের ৫৮ দিন পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী চৌরাস্তায় চেকপোষ্ট বসার অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ রাজি হয়নি। তিনি আরো বলেন, আমার দপ্তরে সেই রকম জনবল নেই, যে অমি চেক পোষ্ট বসাবো। ফলে পরিবহন আটকে মাছ জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে না।

আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, মৎস্য বিভাগ চেক পোষ্ট বসিয়ে পুলিশ চাইলেই আমি পুলিশ দিতে পারি। কিন্তু তারাতো চেক পোষ্টই বসায় না। আমি কোথায় পুলিশ পাঠাবো? পরিবহন গাড়ীর মাছ চেক করতে, তারাই চেক পোষ্ট বসাবেন।  

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসান বলেন, মাছ পরিবহন বন্ধে দ্রæত চেক পোষ্ট বসানো হবে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে সামদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়েছে। চেক পোষ্ট বসিয়ে অভিযান আরো জোরদার করা হবে। 

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।