বিএনপি নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ঘোষিত প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ দেবেন হাইকোর্ট আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ মে)।
বুধবার (২১ মে) বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে ইশরাকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।
রিটটি এমন সময় উঠেছে, যখন আদালতের রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই ২৭ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নতুন মেয়র হিসেবে গেজেট প্রকাশ করেছে এবং আইন মন্ত্রণালয় আপিল না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।
এর পেছনে প্রেক্ষাপট হিসেবে রয়েছে ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির সিটি নির্বাচন, যেখানে ইশরাক হোসেন প্রায় পৌনে দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে। নির্বাচনের পর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০২০ সালের ৩ মার্চ নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ইশরাক। দীর্ঘ তিন বছর পর, চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ফজলে নূর তাপসকে অবৈধ ঘোষণা করে ইশরাককে বৈধ মেয়র ঘোষণা করেন।
ইশরাকের পক্ষে গেজেট প্রকাশিত হলেও এখনো তিনি শপথ নিতে পারেননি। এই অবস্থায় রিট আবেদনটি নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
এদিকে, ইশরাকের পক্ষে ঢাকাবাসীর একটি অংশ টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে নগর ভবনের সামনে। ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করছেন, শপথ অনুষ্ঠানে বিলম্ব করে সরকার আদালতের রায়কে অমান্য করছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইশরাককে ঠেকাতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রিট আদেশ রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে। যদি হাইকোর্ট ইশরাকের শপথ স্থগিত করে, তবে গেজেট এবং ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রভাব খর্ব হবে। অন্যদিকে, আদেশ যদি তার পক্ষে আসে, তাহলে বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, ঢাকা দক্ষিণের মেয়রপদ ঘিরে চলমান এই আইনি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবারের আদেশ সেই উত্তেজনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।