বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

বানিজ্য

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ছে বাংলাদেশে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। অবশ্য বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি বাড়ার তথ্য দিলেও এর আর্থিক মূল্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের তিন দিন পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. […]

নিউজ ডেস্ক

২৯ জানুয়ারী ২০২৫, ১৫:০৮

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। অবশ্য বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি বাড়ার তথ্য দিলেও এর আর্থিক মূল্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের তিন দিন পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ইআইএর প্রতিবেদন বলছে, আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরের মাস সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি বেড়ে যায়। অক্টোবরে এ আমদানির পরিমাণ আরও বাড়ে।
এর মধ্যে সম্প্রতি বছরে ৫০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করতে মার্কিন কোম্পানি আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে একটি নন-বাউন্ডিং চুক্তি করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন কোম্পানি থেকে এলএনজি কেনা বাড়লেও এটা ‘জিওপলিটিক্স’ হিসেবে দেখা যাবে না। এ মুহূর্তে বিশ্বে খোলা বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলো কম খরচে এলএনজি বিক্রি করছে। বাংলাদেশ সেই সুবিধা নিয়েছে বা নিচ্ছে। তবে সম্প্রতি মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে এলএনজি ক্রয়ে করা নন-বাইন্ডিং চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কোনো পদক্ষেপ নিলে বুঝতে হবে এখানে ‘জিওপলিটিক্স’ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারকে দেখতে হবে ব্যবসা করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য যেন নষ্ট না হয়। খুব সতর্ক থাকতে হবে এক্ষেত্রে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর অর্থাৎ জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কোনো কর্মকর্তাই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। অবশ্য একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষ বিধান বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর বিশ্বের খোলা বাজার থেকে দরপত্রের মাধ্যমে এলএনজি কেনা হয়। এক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলোর দরই ছিল সবচেয়ে কম।

জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন এ বিষয়ে কালবেলাকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মার্কিন এলএনজি আমদানি বাড়াটা স্বাভাবিক। কারণ গত বেশ কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক খোলা বাজারে (স্পট মার্কেটে) মার্কিন কোম্পানিগুলো কম দামে এলএনজি বিক্রি করছে। এখন কম দামের এলএনজি যদি পদ্ধতিগতভাবে কেনে, তাহলে কিছু বলার নেই। আগে বিশেষ আইনের আওতায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা হলেও এখন তো দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হচ্ছে।

এ ছাড়া এলএনজি কেনার জন্য কাতারের রাস লাফান লিকুইফাইড ন্যাশনাল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৭ সাল এবং ওমানের ওকিউ ট্রেডিংয়ের সঙ্গে ২০১৮ সালে দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। সরকারি পর্যায়ের এই দুই চুক্তির আওতায় কাতার ১৫ বছর এবং ওমান ১০ বছর বাংলাদেশের কাছে এলএনজি বিক্রি করবে।

মহেশখালীতে সামিটকে আরও একটি ল্যান্ডবেজ টার্মিনাল ও পায়রায় এক্সিলারেট এনার্জিকে একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের অনুমতিও দিয়েছিল হাসিনা সরকার। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো বাতিল করেছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এলএনজি ব্যবসায় এ দুই প্রতিষ্ঠানের ওপর একচেটিয়া ব্যবসা কমাতে চাইছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরই অংশ বিনা দরপত্রে সামিটকে দেওয়া দ্বিতীয় টার্মিনালের কাজ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ দায়মুক্তি আইনে দেওয়া লাইসেন্সটি গত ১৪ জানুয়ারি বাতিল করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এলএনজির সঙ্গে সই করা টার্মশিটও গত বছর ১৬ অক্টোবর বাতিল করা হয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমেই দাম বাড়ায় এলএনজি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফেডারেল রিজার্ভ ইকোনমিক ডেটার তথ্যমতে, গত বছর জানুয়ারিতে স্পট মার্কেটে প্রতি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম ছিল ১০ দশমিক ০১৬৮। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৮২২৩ ডলার। তবে মে মাসে তা আবার ১০ ডলার ছাড়ায়। জুনে তা ১২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। জুলাইয়ে সামান্য কমলেও আগস্টে ১৩ ডলার ছাড়ায়। পরের দুই মাসও এ দাম ১৩ ডলারের ওপরই ছিল। নভেম্বরে তা ১৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এতে স্পট মার্কেট থেকে বাংলাদেশের এলএনজি কেনার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বানিজ্য

নগদে বিনিয়োগে আগ্রহী জামায়াত এমপি আরমান, অডিটের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান সমস্যায় থাকা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নগদে নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও সার্বিক অবস্থা যাচাই করতে ফরেনসিক অডিটের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়েছেন তিনি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন […]

নগদে বিনিয়োগে আগ্রহী জামায়াত এমপি আরমান, অডিটের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি

নগদে বিনিয়োগে আগ্রহী জামায়াত এমপি আরমান, অডিটের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি

নিউজ ডেস্ক

২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৭

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান সমস্যায় থাকা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নগদে নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও সার্বিক অবস্থা যাচাই করতে ফরেনসিক অডিটের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়েছেন তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে পাঠানো ওই চিঠিতে নগদের বর্তমান অবস্থান মূল্যায়নের জন্য অডিট পরিচালনার সুযোগ চাওয়া হয়। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

প্রয়াত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে আরমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় আট বছর গুম ছিলেন। ২০১৬ সালে মিরপুর থেকে অপহৃত হন এবং ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট— শেখ হাসিনা সরকারের পতনের একদিন পর মুক্তি পান তিনি। যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া এই আইনজীবী কথিত ‘আয়নাঘর’-এ আটক থাকা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন।

সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, ‘বিনিয়োগে সহায়তা করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ। দেশি-বিদেশি বহুজাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন এবং তারা সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে নগদের অডিট করতে চায়।’

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, উদীয়মান প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বৈশ্বিক আর্থিক খাতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের আগ্রহ রয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে কয়েকজন বিদেশি বিনিয়োগকারী এতে আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকা নগদকে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তরের পরিকল্পনার কথা তিনি জেনেছেন। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক, পরিচালনাগত সক্ষমতা, ঝুঁকি, শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, নগদ নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত কোনোটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার মতো নয়। অন্তর্বর্তী সরকার নগদকে আবার বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার। নগদ বর্তমানে সরকারের মালিকানাধীন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কেবল এটি পরিচালনা করছে।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের আর্থিক সেবা হিসেবে যাত্রা শুরু করা নগদ এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অস্থায়ী লাইসেন্সে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া ফরেনসিক অডিটর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে আগের ব্যবস্থাপনার সময়ে প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পায়।