মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ক্ষমতাধর সেই এসপি শফিকের কিছুই হয়নি

অর্থের বিনিময়ে জমি দখল করে দেওয়া, বালু ব্যবসা, পোস্টিং বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের আশকারা দেওয়া, ওসির কাছ থেকে ঘুস নেওয়া এবং ঝুট ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ গাজীপুরের সদ্য সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে। তিনি এসপি থাকাকালীন পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে মাদকের বিস্তার ঘটে। দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহার করাই ছিল যার নেশা। একদিকে বাড়ি গোপালগঞ্জ এবং অন্যদিকে […]

নিউজ ডেস্ক

৩০ আগস্ট ২০২৪, ০৭:১৪

অর্থের বিনিময়ে জমি দখল করে দেওয়া, বালু ব্যবসা, পোস্টিং বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের আশকারা দেওয়া, ওসির কাছ থেকে ঘুস নেওয়া এবং ঝুট ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ গাজীপুরের সদ্য সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে।

তিনি এসপি থাকাকালীন পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে মাদকের বিস্তার ঘটে। দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহার করাই ছিল যার নেশা। একদিকে বাড়ি গোপালগঞ্জ এবং অন্যদিকে এসবির সাবেক প্রধান (অতিরিক্তি আইজিপি) মনিরুল ইসলামের ভায়রা ভাই। তাকে আর ঘাঁটায় কে। যে কারণে অসীম ক্ষমতার দম্ভে তিনি কাউকে পরোয়া করতেন না। সম্প্রতি তাকে ময়মনসিংহের ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ক্ষমতা অপব্যবহাকারী দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসারকে শুধু বদলি কিংবা সংযুক্ত করলে হবে না তার বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর তদন্ত শুরু হতে হবে। এরপর বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে সম্পদের হিসাবও নিতে হবে। একইসঙ্গে বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসপি শফিকের ভায়রা প্রভাবশালী মনিরুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। মনিরুল ও শফিকুল দুজনের বাড়িই গোপালগঞ্জে। বাড়ি গোপালগঞ্জে হওয়ায় এবং শীর্ষ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন এসপি শফিকুল। সাধারণ মানুষ কোনো অভিযোগ নিয়ে তার কাছে গেলে কোনো পাত্তা দিতেন না। গাজীপুরের এসপি হিসাবে যোগদানের মাস দেড়েকের মধ্যেই কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা এলাকায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দিয়ে জমি কেনেন শফিকুল। খবর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘গভীর জলের মাছ’ কাজী শফিকুল আলম বেশিরভাগ ঘটনাতেই কাজ করেছেন নেপথ্যে থেকে। সামনে রাখতেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন ও মিরাজুল ইসলামকে। অতিরিক্ত এসপি সানোয়ার হোসেনের সহযোগী ছিলেন জয়দেবপুর থানার এসআই খালেক ও এএসআই মাহফুজ। সূত্র জানায়, গাজীপুর সদর (জয়দেবপুর) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থাকার সময় প্রায় এক বছর আগে সৈয়দ মিজানুর রহমান একজন সুন্দরী কলেজছাত্রীকে মানিকগঞ্জ থেকে ফুসলিয়ে গাজীপুরে আনেন।

তাকে শালবন ইকো রিসোর্ট নামের একটি রিসোর্টে ১০ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানান পর এসপি কাজী শফিকুল আলম ওই ওসিকে তার অফিসে ডেকে আনেন। রাতভর নানা নাটকীয়তার পর ওসির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুস নেন। এরপর ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে ওসির সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ের ব্যবস্থা করেন। বিয়ের পর ওসি মিজান কলেজছাত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠলেও পরে এড়িয়ে চলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সানোয়ার হোসেনকে দিয়ে তদন্ত চালানোর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেন এসপি শফিকুল।

গাজীপুর সদর উপজেলার সড়কঘাট পার হয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার সীমান্তবর্তী কাথাচুড়া গ্রামের সোনাতলা মৌজা। ওই মৌজায় ঘন গজারিবনের পাশে শালদহ ইকো রিসোর্ট নামে একটি বিনোদন পার্ক তৈরি করা হয়েছে। ওই রিসোর্টে যাওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে একটি নতুন রাস্তাও তৈরি করা হয়েছে। এসপি শফিকুলের ছত্রছায়ায় এখানে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দখল করেছেন পুলিশসহ সাবেক-বর্তমানে কর্মরত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা।

শালদহ ইকো রিসোর্টটি ‘আদি ভাওয়াল কর্মজীবী সমবায় সমিতির নামে বলা হলেও এর বেশিরভাগ অংশের মালিক গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকার বাসিন্দা ও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমানসহ গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী এলাকার বাসিন্দা ও সিলেটের এসপি আব্দুল মান্নান, এসপি বাবুল এবং গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. রীনা পারভীনের। এখানকার জমি দখলসহ নানা অপকর্ম জায়েজ করতে সমিতির সদস্য করা হয় সাবেক মুক্তিযদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি দখলের কাজে সহযোগিতা করতেন গাজীপুরের এসপি শফিকুল আলম। তিনি প্রায়ই ওই রিসোর্টে যেতেন। রিসোর্টের জমি দখলের বিষয়ে জানতে বেসরকারি টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক এসপি অফিসে গেলে তিনি (শফিকুল) ওই সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। গাজীপুরের মাওনা এলাকার একজনের স্থাপনাসহ মূল্যবান জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয় শেখ সেলিমের মেয়ের জামাইয়ের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র।

ওই বিষয়ে সাহায্য পেতে ভুক্তভোগী ব্যক্তি এসপি কাজী শফিকুল আলমের কার্যালয়ে যান। কিন্তু এসপি শফিকুল এ বিষয়ে কিছু করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এমনকি এও বলেন, শেখ সেলিমের মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে বসে ঝামেলা শেষ করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। গাজীপুরের এসপি থাকাকালীন কাজী শফিকুল আলম ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, সাংবাদিকদের ফোনও ধরতেন না। কারণে-অকারণেই সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন।

সূত্র জানায়, শফিকুল ইসলাম কয়েক বছর আগে যখন ঢাকায় ডিবিতে কর্মরত ছিলেন তখন ব্যাপকভাবে ক্ষমতার ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তৎকালীন ঢাকার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের লাঠিয়াল বাহিনী হিসাবে শফিকুল বহুবিধ অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তখন শফিউর ও শফিকুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সালমান এফ রহমানের ভাড়াটিয়া বাহিনী হয়ে ঢাকা শহরে আইনবিরোধী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে। শাহ মিজান শাফিউর রহমান বর্তমানে ডিআইজি।

সম্প্রতি তাকে সিলেটের ডিআইজি পদ থেকে সরানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ক্ষমতার চরম অপব্যবহারকারী এই শ্রেণির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। এদিকে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এসপি শফিকুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।