সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ক্ষমতাধর সেই এসপি শফিকের কিছুই হয়নি

অর্থের বিনিময়ে জমি দখল করে দেওয়া, বালু ব্যবসা, পোস্টিং বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের আশকারা দেওয়া, ওসির কাছ থেকে ঘুস নেওয়া এবং ঝুট ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ গাজীপুরের সদ্য সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে। তিনি এসপি থাকাকালীন পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে মাদকের বিস্তার ঘটে। দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহার করাই ছিল যার নেশা। একদিকে বাড়ি গোপালগঞ্জ এবং অন্যদিকে […]

নিউজ ডেস্ক

৩০ আগস্ট ২০২৪, ০৭:১৪

অর্থের বিনিময়ে জমি দখল করে দেওয়া, বালু ব্যবসা, পোস্টিং বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের আশকারা দেওয়া, ওসির কাছ থেকে ঘুস নেওয়া এবং ঝুট ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ গাজীপুরের সদ্য সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে।

তিনি এসপি থাকাকালীন পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে মাদকের বিস্তার ঘটে। দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহার করাই ছিল যার নেশা। একদিকে বাড়ি গোপালগঞ্জ এবং অন্যদিকে এসবির সাবেক প্রধান (অতিরিক্তি আইজিপি) মনিরুল ইসলামের ভায়রা ভাই। তাকে আর ঘাঁটায় কে। যে কারণে অসীম ক্ষমতার দম্ভে তিনি কাউকে পরোয়া করতেন না। সম্প্রতি তাকে ময়মনসিংহের ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ক্ষমতা অপব্যবহাকারী দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসারকে শুধু বদলি কিংবা সংযুক্ত করলে হবে না তার বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর তদন্ত শুরু হতে হবে। এরপর বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে সম্পদের হিসাবও নিতে হবে। একইসঙ্গে বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসপি শফিকের ভায়রা প্রভাবশালী মনিরুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। মনিরুল ও শফিকুল দুজনের বাড়িই গোপালগঞ্জে। বাড়ি গোপালগঞ্জে হওয়ায় এবং শীর্ষ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন এসপি শফিকুল। সাধারণ মানুষ কোনো অভিযোগ নিয়ে তার কাছে গেলে কোনো পাত্তা দিতেন না। গাজীপুরের এসপি হিসাবে যোগদানের মাস দেড়েকের মধ্যেই কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা এলাকায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দিয়ে জমি কেনেন শফিকুল। খবর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘গভীর জলের মাছ’ কাজী শফিকুল আলম বেশিরভাগ ঘটনাতেই কাজ করেছেন নেপথ্যে থেকে। সামনে রাখতেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন ও মিরাজুল ইসলামকে। অতিরিক্ত এসপি সানোয়ার হোসেনের সহযোগী ছিলেন জয়দেবপুর থানার এসআই খালেক ও এএসআই মাহফুজ। সূত্র জানায়, গাজীপুর সদর (জয়দেবপুর) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থাকার সময় প্রায় এক বছর আগে সৈয়দ মিজানুর রহমান একজন সুন্দরী কলেজছাত্রীকে মানিকগঞ্জ থেকে ফুসলিয়ে গাজীপুরে আনেন।

তাকে শালবন ইকো রিসোর্ট নামের একটি রিসোর্টে ১০ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানান পর এসপি কাজী শফিকুল আলম ওই ওসিকে তার অফিসে ডেকে আনেন। রাতভর নানা নাটকীয়তার পর ওসির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুস নেন। এরপর ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে ওসির সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ের ব্যবস্থা করেন। বিয়ের পর ওসি মিজান কলেজছাত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠলেও পরে এড়িয়ে চলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সানোয়ার হোসেনকে দিয়ে তদন্ত চালানোর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেন এসপি শফিকুল।

গাজীপুর সদর উপজেলার সড়কঘাট পার হয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার সীমান্তবর্তী কাথাচুড়া গ্রামের সোনাতলা মৌজা। ওই মৌজায় ঘন গজারিবনের পাশে শালদহ ইকো রিসোর্ট নামে একটি বিনোদন পার্ক তৈরি করা হয়েছে। ওই রিসোর্টে যাওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে একটি নতুন রাস্তাও তৈরি করা হয়েছে। এসপি শফিকুলের ছত্রছায়ায় এখানে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দখল করেছেন পুলিশসহ সাবেক-বর্তমানে কর্মরত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা।

শালদহ ইকো রিসোর্টটি ‘আদি ভাওয়াল কর্মজীবী সমবায় সমিতির নামে বলা হলেও এর বেশিরভাগ অংশের মালিক গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকার বাসিন্দা ও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমানসহ গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী এলাকার বাসিন্দা ও সিলেটের এসপি আব্দুল মান্নান, এসপি বাবুল এবং গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. রীনা পারভীনের। এখানকার জমি দখলসহ নানা অপকর্ম জায়েজ করতে সমিতির সদস্য করা হয় সাবেক মুক্তিযদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি দখলের কাজে সহযোগিতা করতেন গাজীপুরের এসপি শফিকুল আলম। তিনি প্রায়ই ওই রিসোর্টে যেতেন। রিসোর্টের জমি দখলের বিষয়ে জানতে বেসরকারি টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক এসপি অফিসে গেলে তিনি (শফিকুল) ওই সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। গাজীপুরের মাওনা এলাকার একজনের স্থাপনাসহ মূল্যবান জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয় শেখ সেলিমের মেয়ের জামাইয়ের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র।

ওই বিষয়ে সাহায্য পেতে ভুক্তভোগী ব্যক্তি এসপি কাজী শফিকুল আলমের কার্যালয়ে যান। কিন্তু এসপি শফিকুল এ বিষয়ে কিছু করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এমনকি এও বলেন, শেখ সেলিমের মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে বসে ঝামেলা শেষ করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। গাজীপুরের এসপি থাকাকালীন কাজী শফিকুল আলম ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, সাংবাদিকদের ফোনও ধরতেন না। কারণে-অকারণেই সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন।

সূত্র জানায়, শফিকুল ইসলাম কয়েক বছর আগে যখন ঢাকায় ডিবিতে কর্মরত ছিলেন তখন ব্যাপকভাবে ক্ষমতার ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তৎকালীন ঢাকার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের লাঠিয়াল বাহিনী হিসাবে শফিকুল বহুবিধ অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তখন শফিউর ও শফিকুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সালমান এফ রহমানের ভাড়াটিয়া বাহিনী হয়ে ঢাকা শহরে আইনবিরোধী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে। শাহ মিজান শাফিউর রহমান বর্তমানে ডিআইজি।

সম্প্রতি তাকে সিলেটের ডিআইজি পদ থেকে সরানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ক্ষমতার চরম অপব্যবহারকারী এই শ্রেণির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। এদিকে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এসপি শফিকুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি।

সারাদেশ

পূজা মন্ডপের পাশে মুসলিম শিশু ধ/র্ষ/ণ, পূজামণ্ডপের সহসভাপতি ভজেন্দ্র সরকার গ্রেফতার

পূজা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকা অবস্থায় ভজেন্দ্র সরকার কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বড়ভাই ও স্বজনরা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে

নিউজ ডেস্ক

০২ অক্টোবর ২০২৫, ০০:৩২

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ীতে পূজা মণ্ডপের পাশে আট বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত ভজেন্দ্র সরকারকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতার হওয়া ভজেন্দ্র সরকার (৫৫) আশ্রয়ণ প্রকল্প পূজামণ্ডপের সহসভাপতি এবং মেঘলাল সরকারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পূজা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকা অবস্থায় ভজেন্দ্র সরকার কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বড়ভাই ও স্বজনরা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ভজেন্দ্র সরকারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। শিশুটির মা মোসা. ফাতেমা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলাটি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি এমন অপরাধে জড়ান, তবে তা সমাজে গভীর ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।

সারাদেশ

আ’লীগ নেতাকে বের করে দেওয়ায় ,যুবদলের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার সদর উপজেলার যুবদলের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠেছে কামাল খান নামের এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ওইদিন বিকালে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের এক আ’লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায়। বিষয়টি ওই নেতাকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তার […]

আ’লীগ নেতাকে বের করে দেওয়ায় ,যুবদলের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৩

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার সদর উপজেলার যুবদলের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠেছে কামাল খান নামের এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে ওইদিন বিকালে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের এক আ’লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায়। বিষয়টি ওই নেতাকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে অফিসটিতে হামলা করে। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপির লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। 

ফুল উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে তার কোন পদ পদবী নেই। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খানের ভাতিজার বউভাতের অনুষ্ঠান চলছিল। এ অনুষ্ঠানে আশপাশের এলাকা সহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনকে দাওয়াত করা হয়। যথারীতি ওইদিন দুপুর থেকে আমন্ত্রিত লোকজন আসতে থাকেন।

আনন্দ ঘন পরিবেশে এলাকার যুবসমাজ আপ্যায়ন কাজ করেন। বিকালে পৌর সদরের তোফায়েল নামের এক ব্যক্তি দাওয়াত খেয়ে লক্ষীগঞ্জ বাজারের ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে বসেন। তখন ফুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি যুবদলের অফিসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তোফায়েল বসতে বলেন।

ফুল মিয়া অফিসে বসার পর স্থানীয় এক যুবদল নেতা বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে অত্যাচার নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তাকে তাড়িয়ে দেন। ফুল মিয়া বিষয়টি লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খানের কাছে জানান। পরে কামাল বিষয়টি জানার পর যুবদলের অফিসে আসেন। তোফায়েল সহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কামালকে ঘটনা খুলে বলেন এবং তাকে শান্ত করে বুঝিয়ে দেন। কামাল খান যুবদলের অফিস থেকে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তার লোকজন অফিসে হামলা ভাঙচুর করেন।

বিএনপি নেতা বাবুল মিয়া বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফুল মিয়া দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকার লোকজনকে অত্যাচার নির্যাতন করেছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও জেলা বিএনপি’র নেতা শফিকুল কাদের সুজা ভাইয়ের উপরও সে হামলা করে।

তাকে যুবদলের অফিসে থেকে কিছু পোলাপান বখাঝখা করে তাড়িয়ে দেয়। পরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তার লোকজন নিয়ে যুবদলের অফিসে হামলা ভাঙচুর করে। তবে আমরা যুবদলের লোকজনকে ঝামেলা করতে দেইনি। 

নেত্রকোনা পৌর শহরের কুরপাড়ের বাসিন্দা তোফায়েল মীর বলেন, আমি লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল ভাইয়ের ভাতিজার বিয়ের দাওয়াত খেয়ে ফেরার সময় যুবদলের অফিসে নেতাকর্মীদের দেখে বসি। কিছুক্ষণ পর একজন বয়স্ক লোককে বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বসতে বলি।

আমি জানিনা তিনি আওয়ামী লীগ করতেন কিনা। পরে কিছু পোলাপান তার অত্যাচার নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে গালমন্দ করে অফিস থেকে চলে যেতে বলে। এরপর তিনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কামাল ভাই যুবদলের অফিসে আসেন।

তাকে আমরা বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তিনি চলে যান। কিন্তু দশ মিনিট পর তিনি তার লোকজন নিয়ে অফিসে এসে হামলা করেন। বিষয়টি দেখে হতবাক হয়েছি।

লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম বলেন, ফুল মিয়া নামের একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খান তার লোকজন নিয়ে অফিসে হামলা করেন।

দায়িত্বশীল কোন নেতা যদি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করে তা দুঃখজনক। আমি চাই সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যাতে আর কেউ পতিত আওয়ামী লীগের কাউকে পুনর্বাসন করতে না পারে।

লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কামাল খান বলেন, আমার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক দাওয়াতি মেহমান এসেছে। ফুল মিয়াও দাওয়াত খেতে আসে। তাকে প্রথমে আমাদের দলের ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু লোকজন বাজারে মারপিট করে।

যেহেতু আমার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছে বিষয়টি আমি জেনে তাদের বলি কাজটা ঠিক হয়নি। পরে আরেক দফা তাকে মারপিট করা হয়। আমার চেম্বারের সিসি ক্যামেরা আছে প্রয়োজনে এখানে যা সংঘটিত হয়েছে এর সব তথ্য প্রমাণ ভিডিও ফুটেজে পাওয়া যাবে। আমার সুনাম নষ্ট করতে কিছু লোক পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা নিজেরাই ওই চেম্বারের চেয়ার ভাঙচুর করে একটা বাজে পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তবে ফুল মিয়াকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কাজী শাহ্ নেওয়াজ বলেন, দলীয় অফিসে হামলা হয়েছে কিনা বিষয়টি জানিনা। তবে লক্ষীগঞ্জ একটি ঝামেলা হয়েছে শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সারাদেশ

একই আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দেখা দিয়েছে এক বিরল ও চমকপ্রদ পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির হয়ে মাঠে, আর ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক লড়ছেন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল। […]

একই আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৪

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দেখা দিয়েছে এক বিরল ও চমকপ্রদ পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির হয়ে মাঠে, আর ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক লড়ছেন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন, যেখানে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আজিজুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন রৌমারী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ফলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ভাইয়ের বিপরীতে ভাই’ এই অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন মোস্তাক। তিনি স্থানীয় জামায়াতের একটি প্রভাবশালী মুখ হিসেবে সমর্থকদের নিয়ে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিএনপি থেকে তার বড় ভাইয়ের মনোনয়ন ঘোষণার পর নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দুই ভাইয়েরই এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকায় ভোটের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার। এ আসন ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলেরই শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই এই পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

স্থানীয় রাজনীতিকরা বলছেন, “রৌমারী-চিলমারীর ইতিহাসে এটাই প্রথমবার দুই ভাই একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে নির্বাচনী মাঠে এক ধরনের আবেগ ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।”

জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “আমার বড় ভাই প্রার্থী হয়েছেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। জামায়াতের জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেড়েছে। জনগণ পরিবর্তন চায়।”
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, “আমার ছোট ভাই একসময় বিএনপির রাজনীতি করত। এখন জামায়াতে গেছে, তবে জনগণ এখনও আমার সঙ্গেই আছে। আমি মাঠে নামলে সেই সমর্থন আরো শক্ত হবে।”

দুই ভাইয়ের এই লড়াই শুধু রাজনীতিতে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভোটারদের মতে, এই নির্বাচনে রক্তের সম্পর্ক নয়, জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে জনগণের ভালোবাসা ও রাজনৈতিক বিশ্বাস।