শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

আরও এক বনখেকোর সন্ধান, শ্রীপুরে বনের জমি দখল করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নে শালবনের বুক চিড়ে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে হা-মীম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। বনের জমি জবরদখল করে গড়ে তোলা হা-মীমের এ সাম্রাজ্যকে কেন্দ্র করে গ্রুপটির মালিক এ কে আজাদের সঙ্গে বন বিভাগের দ্বন্দ্ব চলছে প্রায় দুই দশক ধরে। বনখেকো এ কে আজাদের অর্থ, পেশিশক্তি আর রাজনৈতিক প্রভাব ও দাপটের কাছে সব সময়ই […]

নিউজ ডেস্ক

২৯ আগস্ট ২০২৪, ১৪:৪৯

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নে শালবনের বুক চিড়ে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে হা-মীম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। বনের জমি জবরদখল করে গড়ে তোলা হা-মীমের এ সাম্রাজ্যকে কেন্দ্র করে গ্রুপটির মালিক এ কে আজাদের সঙ্গে বন বিভাগের দ্বন্দ্ব চলছে প্রায় দুই দশক ধরে।

বনখেকো এ কে আজাদের অর্থ, পেশিশক্তি আর রাজনৈতিক প্রভাব ও দাপটের কাছে সব সময়ই বন বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসন অসহায়ত্ব স্বীকার করে এসেছে। হা-মীম গ্রুপের বেদখল করে নেওয়া বনের জমি উদ্ধার তো হয়ইনি বরং আরও নতুন জমি জবরদখল করা হয়েছে।

বন বিভাগ বলছে, এ শিল্প পার্কটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি অবজ্ঞা করা হয়েছে। হা-মীমের শিল্পপার্ক গড়ে উঠেছে বনের ভেতরে। এর বেশির ভাগই নিচু জমি, যা স্থানীয় ভাষায় ‘বাইদ’ নামে পরিচিত। বাইদ ভরাট করে গড়ে তোলা শিল্প-কারখানার বর্জ্য ও বিষাক্ত (টক্সিক) রাসায়নিক পদার্থের উৎকট দুর্গন্ধ স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

হা-মীমের ওই শিল্পপার্কটি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী বিস্তৃত। একপাশে দাঁড়িয়ে তাকালে অপর পাশ দেখা বা অনুমান করার উপায় নেই। শিল্পপার্কের অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতে হয় সাইকেল, মোটরবাইক বা গাড়ি। এখানে প্রতিষ্ঠিত কারখানাগুলো হলো হা-মীম ডেনিমস লিমিটেড, হা-মীম স্পিনিং লিমিটেড এবং হা-মীম টেক্সটাইল লিমিটেড।

জানা যায়, বন বিভাগ হা-মীম গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করে ২০০৭ সালে। সে মামলা আজ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এরপর দফায় দফায় বন বিভাগের আরও জমি দখলে নিলে ২০১৮ সালে আরেকটি মামলা করা হয়। অন্যদিকে বন বিভাগকে ঠেকাতে চারটি মামলা দিয়ে রেখেছে হা-মীম গ্রুপ।

বন বিভাগের দ্বিতীয় মামলাটির প্রেক্ষাপট ছিল হা-মীম গ্রুপের পুনরায় বনের জমি জবরদখল।

এ সময় বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জের তত্ত্বাবধানে শিমলাপাড়া বিটের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীরা মিলে প্রায় আট একর জমি হা-মীমের জবরদখল থেকে উদ্ধার করে নতুন বাগান সৃজন করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে হা-মীম গ্রুপের মালিক এ কে আজাদ বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

হা-মীম গ্রুপের পত্রিকা সমকাল-এর তৎকালীন সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে সঙ্গে নিয়ে এ কে আজাদ এক রিপোর্টারের সহযোগিতায় দেখা করেন তৎকালীন বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে। উপমন্ত্রী জ্যাকবের সমর্থন নিয়ে বনের জমি বেশি করে জবরদখল করা হয়। এর অসৎ উদ্দেশ্যটি ছিল কোনো কারণে যদি বনের জমি ছাড়তে হয় তাহলে যেন আগের দখল করা অংশটুকু থেকে যায়।

একদিকে তৎকালীন বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করে বন বিভাগের লোকজনকে বাড়াবাড়ি না করে চুপ রাখা হয়। অন্যদিকে ওই একই সময়ে শিমলাপাড়া বিটে সশস্ত্র মহড়া দেয় হা-মীম গ্রুপের স্বত্বাধিকারী এ কে আজাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। প্রায় ২০ জনের সেই দলের প্রত্যেকে অস্ত্রশস্ত্র উঁচিয়ে শাসিয়ে যায় শিমলাপাড়া বিটের সবাইকে।

একজন বন কর্মকর্তা জানান, ওই সময় শিমলাপাড়া বিট থেকে একজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সাইফুল ও তার সহযোগীরা। বন বিভাগ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে আপসরফা করে অপহৃত ওই বনকর্মীকে ১৫ দিন পর উদ্ধার করে আনে। ওই ঘটনায় একটি মামলা করার চেষ্টাও হয়েছিল। কিন্তু বনের তৎকালীন কর্মকর্তারা পরবর্তী নিরাপত্তার স্বার্থে তা আর করেননি।

ওই বন কর্মকর্তা বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট এবং রেঞ্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন। ভয়ে কেউ হা-মীম গ্রুপের কাউকে কিছু বলতে যান না। কয়েক মাস আগে বনের জমি উদ্ধারে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নতুন করে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিলেও তা পালন করতে ভয় পান সংশ্লিষ্ট বনকর্মীরা।

এক বন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি বা আমাদের কেউ এখন হা-মীমের আশপাশেও যাই না। ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী বন বিভাগের মোট ১৬ একর (প্রায় ৫২ বিঘা) জমি হা-মীম গ্রুপ কর্তৃক জবরদখল করা আছে। ঠিকমতো রেকর্ড পরিমাপ করলে দেখা যাবে, জবরদখল করা জমির পরিমাণ আরও অনেক বেশি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ কে আজাদের সঙ্গে বন বিভাগের দ্বন্দ্ব দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে আমরা আইনগত পরিধি অনুযায়ী এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু তা কাজে আসেনি। ’

গত জুলাইয়ে সাক্ষাৎ করে এ ব্যাপারে মন্তব্য চাইলে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘জবরদখলকারীর বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী বন বিভাগ থেকে একটা উচ্ছেদ প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের এই দপ্তরে পাঠানো হয়। সেটি হাতে পেলে আমরা উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। হা-মীম গ্রুপের বিরুদ্ধে কোনো উচ্ছেদ নোটিশ আমরা পাইনি। ’

এ ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয় বন বিভাগের বন সংরক্ষক হোসাইন মুহাম্মদ নিশাদ বলেন, নিয়মানুযায়ী মামলা বিচারাধীন থাকলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রস্তাব পাঠানো যায় না।

এদিকে বনের অভ্যন্তরে হা-মীম গ্রুপের বিস্তৃত জমির সঙ্গে লাগোয়া ব্যক্তিমালিকানার জমি পেলেই তা কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেন এ কে আজাদ। জমি কিনতে এলাকাভেদে তার একাধিক এজেন্ট কমিশন বা কন্ট্রাক্ট ভিত্তিতে লোক নিয়োজিত আছে। এমনই একজন স্থানীয় মুলাইদ গ্রামের নাজমুল। ব্যক্তিমালিকানার জমির সঙ্গে যুক্ত বন বিভাগের জমি বা খাস জমি শনাক্তকরণ করে কিনতে সহযোগিতা করেন ওই নাজমুল। এরপর ওই জমি কেনার লোভনীয় দরের প্রস্তাব দিয়ে ফাঁদে ফেলা হয় জমির মালিককে। অভিযোগ আছে স্থানীয় জমির মালিকদের প্রথমে লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে বায়নাপত্র করা হয়। তারপর জমি দখলে নিয়ে আর অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা হয় না।

এ রকমই একজন স্থানীয় তেলিহাটি ইউনিয়নের ধনুয়া মৌজার ফরিদপুর গ্রামের ইব্রাহিম মোল্লা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার জমি জবরদখল করে নিয়েছে হা-মীম গ্রুপ। বায়নাপত্র করার পর আর আমাকে পাত্তা দিচ্ছে না ওই গ্রুপের লোকজন। আমি জমি ও অর্থ দুটিই হারিয়েছি। আমি তাদের গেট পর্যন্ত যেতে পারি। ভেতরে যেতে পারি না। ’ এ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় দলিলাদিও দেখান তিনি।

বুধবার (২৮ আগস্ট) মন্তব্য জানতে হা-মীম গ্রুপের কর্ণধার এ কে আজাদের একাধিক ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন নোবেল বিজয়ী প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

পরিবেশবিষয়ক বেসরকারি সংগঠন পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী হিসেবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সব সময় পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন। অতীতে পরিবেশ সুরক্ষায় আপসহীন জোরালো ভূমিকার কারণে তাকে রাজনৈতিক ও বিত্তবান প্রভাবশালীদের বিরূপ আচরণ ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। বর্তমানে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় দেশ ও জনগনের বৃহত্তর স্বার্থে তার সর্বোচ্চ আইনগত বিধিবিধান প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে লিগ্যাল প্রসেস বা আইনগত প্রক্রিয়াটাই আমরা অনুসরণ করব। এত বছর ধরে যে বনের ভেতরে কারখানাগুলো চলছে, তার জন্য হয় রাজনৈতিক প্রভাব আছে, নয়তো বন বিভাগের লোকজনের যোগসাজশ আছে। আমাকে বুঝতে হবে যে ভূমির রেকর্ড টেম্পারিং হয়েছে কি না। যদি তা হয়ে থাকে এবং দেখা যায় যে দখলকারীর কোনো ভূমি রেকর্ড নাই বা যেটা আছে সেটা সঠিক নয়, তাহলে তো বনের জমি উদ্ধারে পদক্ষেপটা সহজ হয়ে যাবে। মূলত আইনগত দিকটাতেই জোর দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান আরো বলেন, ‘অনেক সময় বন বিভাগের পক্ষে জমি দখল সম্পর্কিত অনেক মামলা আমি দেখেছি। প্রতিটি লিগ্যাল স্টেপেই বন বিভাগ হেরে যায়। যদিও গেজেট অনুযায়ী ভূমির রেকর্ড ও বাউন্ডারি লাইন করার ক্ষমতা বন বিভাগেরই রয়েছে। তারপরও বন বিভাগ হেরে যায়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী যদি দেখি বন বিভাগের লিগ্যাল অবস্থান শক্ত আছে, তাহলে আমি অবশ্যই সে জমি রক্ষায় আমার আইনগত সব শক্তি প্রয়োগ করব।’

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আইন মেনে সংস্কার করব। আইনি ধারায় সংস্কার করব। বন ও ভূমিসংক্রান্ত বিদ্যমান আইন যতক্ষণ পর্যন্ত না সংস্কার করা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমি বিদ্যমান আইনেই কথা বলব।’

সূত্র: খবরের কাগজ

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।