শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

আধুনিক সমাজের নারীদের জন্য খাদিজা রা.-এর আর্দশ

আল্লাহ তায়ালা নারী ও পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি দুটো পৃথক মনকে একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন, অনুর্বর হৃদয়ে ভালোবাসার উর্বরতা সৃষ্টি করেছেন এবং মায়াহীন অন্তরে মায়ার শীতলতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ সম্পর্কের অটুট বন্ধন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, তোমাদের জীবনসঙ্গীরা তোমাদের অবিছেদ্য অংশ, আর তোমরাও তাদের অবিছেদ্য অংশ। (সুরা আল-বাক্বারাহ: […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৯:২২

আল্লাহ তায়ালা নারী ও পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি দুটো পৃথক মনকে একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন, অনুর্বর হৃদয়ে ভালোবাসার উর্বরতা সৃষ্টি করেছেন এবং মায়াহীন অন্তরে মায়ার শীতলতা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এ সম্পর্কের অটুট বন্ধন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, তোমাদের জীবনসঙ্গীরা তোমাদের অবিছেদ্য অংশ, আর তোমরাও তাদের অবিছেদ্য অংশ। (সুরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৭)। অর্থাৎ, জীবনের সঙ্গিনী হিসেবে একজন নারী স্বামীর জীবনের আলোর বাতিঘর।

যে নারী সারা জীবন ধরে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আগলে রেখেছিলেন, তার নাম হলো হযরত খাদিজাতুল কুবরা রা.। নবীজি সা.-তার সততা, বিশ্বস্ততা, ভদ্রতা, পরোপকার প্রবৃত্তি এবং অন্যান্য চারিত্রিক গুণে মুগ্ধ হয়ে তাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেন।

হযরত খাদিজা রা.-এর জীবন আজও বর্তমান সমাজের নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। তিনি কতটা ভালোবেসে নবীজিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। হাদিসের আলোকে তার কিছু চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হলো।

নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

হজরত খাদিজা রা. প্রিয় নবীজি সা. -এর শুধু স্ত্রীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। হেরা গুহায় যখন নবীজি সা. ধ্যানে মগ্ন থাকতেন, তখন খাদিজা রা. সেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তার কাছে খাবার পৌঁছে দিতেন। (সহিহ বোখারি :৩)

যাদের হেরা গুহা স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়েছে, তারা জানে সেখানে পৌঁছানো কতটা দুঃসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু হজরত খাদিজা রা.-এর ভালোবাসা ও সাহসিকতা তাকে কখনোই বাধা দেয়নি।

সাহসদাতা ও সান্ত্বনাদাতা নারী

নবীজি সা. যখন প্রথম হজরত জিবরাইল আ.-কে দেখে ভয় পেয়ে যান, তখন তিনি খাদিজা রা.-এর কাছে আসেন। তিনি বলেন, খাদিজা আমার কী হলো? আমি নিজের ওপর আশঙ্কা করছি। খাদিজা রা. তখন সাহস দিয়ে বলেন, না কখনো তা হবে না। বরং সুসংবাদ গ্রহণ করুন।

আল্লাহর কসম! তিনি আপনাকে অপমানিত করবেন না। আপনি স্বজনদের খোঁজখবর রাখেন, সত্য কথা বলেন, দুঃখীদের দুঃখ নিবারণ করেন, দরিদ্রদের বাঁচার ব্যবস্থা করেন, অতিথির সেবা করেন এবং প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্য করেন। (সহিহ মুসলিম: ২৯৩)

খাদিজা রা-এর এ সাহসিকতা ও সমর্থন নবীজির জন্য এক অমূল্য পাথেয় ছিল।

স্বামীর কাজে সমর্থন

মুসনাদ ইবন হাম্বলে বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে জানা যায়, হজরত খাদিজা রা. এক রাতে নবীজির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন। এক প্রতিবেশিনী যখন নবীজিকে শুনেছিলেন যে তিনি কখনো লাত এবং উজ্জা পূজা করবেন না, তখন খাদিজা রা. দৃঢ়ভাবে বলেন, দূর হোক লাত আর উজ্জা। (মুসনাদে আহমদ: ১৭৪৮৭)

এমন দৃঢ় সমর্থন ও বিশ্বাস নবীজির প্রতি তার ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ করে।

আদর্শ জীবনসঙ্গিনীর ইসলাম গ্রহণ

হজরত খাদিজা রা. নবীজির দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা.-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, যেদিন আমি ইসলাম গ্রহণ করি, সেদিন আমি তৃতীয় ব্যক্তি ছিলাম যে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। (সহিহ বোখারি: ৩৭২৭)

খাদিজা রা. ও আবু বকর রা. ছাড়া অন্য কেউ তখন ইসলাম গ্রহণ করেননি। এ থেকে বোঝা যায়, খাদিজা রা. ছিলেন নবীজির প্রথম সহযাত্রী ইসলামের পথে।

ভালোবাসায় সমর্পণ

হজরত খাদিজা রা. তার চারিত্রিক গুণাবলির জন্য ‘তাহিরা’ (পবিত্র) নামে সুপরিচিত ছিলেন। বিয়ের আগে তিনি মক্কার এক ধনাঢ্য বিধবা ছিলেন এবং সিরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে তার বাণিজ্য চলত।

নবী মুহাম্মদ সা.-এর গুণাবলির কথা শুনে তিনি নিজের ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব নবীজির ওপর অর্পণ করেন। নবীজির আদর্শ ও সততা দেখে তিনি নিজের সবকিছু তাঁকে সমর্পণ করেছিলেন।

সাহসী ও দৃঢ়চিত্ত নারী

মক্কায় ইসলাম প্রচারের পর, কোরাইশরা নবীজির বিরুদ্ধে শত্রুতা শুরু করে এবং তিনি নানা অত্যাচারের শিকার হন। নবুওয়তের সপ্তম বছরে কোরাইশরা নবীজি এবং তার পরিবার-পরিজনকে একঘরে করে দেয়।

তিন বছর পর্যন্ত তারা বর্ণনাতীত কষ্ট সহ্য করেন। এই কঠিন সময়ে হজরত খাদিজা রা. ছিলেন নবীজির পাশে, তাকে সাহস ও সমর্থন জুগিয়ে চলছিলেন। তিনি তার অগাধ ধনসম্পদ ইসলাম প্রচারের জন্য ব্যয় করেন।

হযরত খাদিজা রা. এক আদর্শ নারীর মূর্তিমান রূপ। তিনি নিঃস্বার্থভাবে নিজের জীবন ও সম্পদ নবীজির জন্য উৎসর্গ করেছিলেন এবং ইসলামের প্রচারের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করেছিলেন।

তাঁর জীবন আমাদেরকে শিক্ষা দেয়, কীভাবে একজন নারী একজন পুরুষকে সফল করতে পারে। তাঁর জীবনী আমাদের নারী সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

 

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।