উপকূলীয় জনপদ পটুয়াখালীর গলাচিপা—একসময় যেখানে উন্নয়ন ছিল ধীরগতির, নাগরিক সেবায় ছিল নানা সীমাবদ্ধতা। সেই চিত্রে গত এক বছরে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে গলাচিপা এখন এগিয়ে চলেছে নতুন সম্ভাবনার পথে।
২০২৫ সালের ১৩ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নিজেকে কেবল প্রশাসনিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং জনসেবাকে করেছেন আরও গতিশীল, মানবিক ও কার্যকর। দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব এবং পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব—সব ক্ষেত্রেই রেখেছেন দক্ষতার স্বাক্ষর।
রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে তিনি থেকেছেন নিরপেক্ষ ও দৃঢ় অবস্থানে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন পরিচালনা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মকর্তা কাজকে অফিসঘরে সীমাবদ্ধ রাখেননি। দিনের ব্যস্ততা শেষে গভীর রাতেও উন্নয়ন কাজ তদারকিতে মাঠে নেমেছেন তিনি। তার নিষ্ঠা, কর্মস্পৃহা এবং দায়িত্ববোধ তাকে মানুষের হৃদয়ে করে তুলেছে বিশেষভাবে প্রিয়।
তার উদ্যোগে গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের পরিবেশে এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন। নির্মিত হয়েছে সীমানা প্রাচীর, সংস্কার করা হয়েছে খেলার মাঠ, গড়ে উঠেছে আধুনিক শহীদ মিনার। উপজেলা ভবন থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত রঙিন নকশার পাকা রাস্তা ও আলোকসজ্জা এখন স্থানীয়দের কাছে ‘সেলফি রোড’ নামে পরিচিত।
এছাড়াও খেয়াঘাট এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক নামফলক, নির্মাণ করা হয়েছে টোল ঘর এবং শিশুদের জন্য একটি আকর্ষণীয় পার্ক—যা দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর সীমিত বাজেটেও থেমে থাকেননি তিনি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সক্রিয় নজরদারির মাধ্যমে শহরের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
সুধীজনদের মতে, একজন কর্মকর্তার সদিচ্ছা, কর্মনিষ্ঠা ও নেতৃত্ব একটি জনপদের চিত্র কত দ্রুত বদলে দিতে পারে—তার বাস্তব উদাহরণ ইউএনও মাহমুদুল হাসান।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিনি ইতোমধ্যে ঢাকা বিভাগে বদলি হয়েছেন। তবে স্বল্প সময়ের এই দৃশ্যমান পরিবর্তন গলাচিপাবাসীর মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এই কর্মকর্তার জন্য রইল আগামীর পথচলায় শুভকামনা—কারণ বদলি হয় কর্মস্থলের, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা থেকে যায় চিরকাল।