পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসনে ইরান সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত চুক্তিতে রাজি হবে না, ততক্ষণ দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিলেন, যেখানে প্রথমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল এবং পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী সময়ের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর ‘স্বল্পমেয়াদী কিন্তু শক্তিশালী’ এক দফার বিমান হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছে বলে এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে। আলোচনার বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যেই এই হামলার ছক কষা হয়েছে।
এই পরিকল্পনায় মূলত ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, যাতে তেহরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে এবং নমনীয় হতে বাধ্য করা যায়।
ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, তার কাছে বোমাবর্ষণের চেয়ে অবরোধ অনেক বেশি কার্যকর মনে হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তিনি সরাসরি কোনো সামরিক হামলার নির্দেশ না দিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে তাকে হাতে বন্দুক নিয়ে ইরানকে সতর্ক করতে দেখা গেছে। ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘আর কোনো দয়া দেখানো হবে না’।
আপাতত ট্রাম্প এই অবরোধকেই দরকষাকষির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। তবে ইরান যদি নতি স্বীকার না করে, তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বুধবার এক্সিওসের সাথে ১৫ মিনিটের টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অবশ্য কোনো সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে রাজি হননি।
ট্রাম্প বলেন, ‘অবরোধ বোমাবর্ষণের চেয়েও কিছুটা বেশি কার্যকর। তারা এখন চরম শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে আছে এবং পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও খারাপ হবে। তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।’
তিনি দাবি করেন, অবরোধ প্রত্যাহারের জন্যই ইরান এখন মরিয়া হয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।
ট্রাম্প আরও জানান, অবরোধের কারণে তেল রপ্তানি করতে না পেরে ইরানের তেল মজুত এবং পাইপলাইনগুলো এখন ‘বিস্ফোরণের কাছাকাছি’ অবস্থায় রয়েছে। যদিও অনেক বিশ্লেষক মনে করেন ইরান এখনই এ ধরণের বিপদে নেই।
অন্যদিকে ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্র দেশটির ইংরেজি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-কে বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধের বিপরীতে শীঘ্রই ‘বাস্তব এবং অভূতপূর্ব পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে।
ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, কূটনীতিকে সুযোগ দিতে এবং ট্রাম্পের সামনে যুদ্ধ শেষ করার সুযোগ তৈরি করতে এ পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছে।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি বাহিনী মনে করে যে ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে এবং অবরোধ অব্যাহত থাকলে এবার একটি ‘শাস্তিমূলক জবাব’ দেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?