মঈন উদ্দীন, বান্দরবান প্রতিনিধি
পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে বান্দরবানের সুয়ালকের ম্রো কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়—মাত্র ৪৬ দিন হলেও সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে পার্বত্য এলাকার সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ১২টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার প্রসারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী জুম চাষকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ করা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলার মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
দেশকে আরও শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উন্নত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে ম্রো কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত। ভবিষ্যতে এটিকে আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠান শেষে ম্রো কমপ্লেক্স বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় খাবার বিতরণ করা হয়। পরে সুয়ালক মাঝের পাড়ায় মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবের জলকেলি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি।
এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সালেহ আহাম্মদ।এছাড়া সুয়ালক ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান,
উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বীন মুহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মশিউর রহমান মিটুন, আবদুল মাবুদ, জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা দলের নেত্রী উম্মে কুলসুম লীনা ও নিরুতাজ বেগমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণ।