সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ–ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে আরও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে। আসামের নুমালীগড় রিফাইনারিজ লিমিটেড থেকে পাঠানো এই জ্বালানি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর রিসিপ্ট টার্মিনালে পৌঁছেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম। তিনি জানান, শুক্রবার রাতেই ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল গ্রহণের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এছাড়া আগামী ১৭ এপ্রিল একই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি এপ্রিল মাসে চারটি ধাপে মোট ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম চালানের ৮ হাজার মেট্রিক টন ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।
এর আগে বছরের প্রথম তিন মাসে চার দফায় ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনা হয়েছে। পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর রিসিপ্ট টার্মিনাল থেকে এসব জ্বালানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিন বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলে সারাবছর ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পাইপলাইন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ১৩১.৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম চালু হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করবে। শুরুতে বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আনা হলেও চাহিদা অনুযায়ী এই পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানি করা যাবে। এর ফলে আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে জ্বালানি এনে উত্তরাঞ্চলে পৌঁছাতে যে ৬–৭ দিন সময় লাগত, এখন তা অনেকটাই কমে এসেছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও দ্রুত হয়েছে।