মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় তেলের সংকটের মধ্যে ব্যতিক্রমী এক দৃশ্যের দেখা মিলেছে। একটি মোটরসাইকেল ভ্যানে তুলে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের ফিলিং স্টেশনে এনে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন এক যুবক।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সোনারং এলাকার কে আলী ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন তেল সংকটের কারণে ওই পাম্পে তেল নিতে শতাধিক মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি ছিল। এর মধ্যেই একটি মোটরসাইকেল ভ্যানের ওপর করে এনে লাইনে দাঁড় করানো হয়, যা উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
জানা যায়, মোটরসাইকেলটির মালিক ইমরান হোসেন জরুরি প্রয়োজনে কালিবাড়ী এলাকায় যাওয়ার পর মাঝপথে তেল শেষ হয়ে যায়। আশপাশে তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি ভ্যানে করে মোটরসাইকেলটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের ওই ফিলিং স্টেশনে নিয়ে আসেন।
তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি পাম্পে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগেই তেল শেষ হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েন ইমরান। পরে বিষয়টি টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশের এএসআই শফিকুল ইসলামের নজরে এলে তিনি পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কষ্ট করে ২০০ টাকার তেলের ব্যবস্থা করে দেন।
এ বিষয়ে এএসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, “যুবকটি ভ্যানে করে মোটরসাইকেল এনে তেল নিতে এসেছে দেখে মানবিক দিক বিবেচনায় পাম্প মালিকের সঙ্গে কথা বলে সামান্য তেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ফিলিং স্টেশনে অকটেন সরবরাহ শুরু হয়। এরপর থেকেই তেল নিতে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও সিরিয়াল নিয়ে মাঝেমধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনের মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, “এক সপ্তাহ পর তেল পাওয়ায় হঠাৎ করে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। আমরা প্রতিটি মোটরসাইকেলকে ২০০ টাকার তেল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে বুধবার বিকেলেই তেল শেষ হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারিভাবে তেলের সংকট না থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে আমরা পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছি না, ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।”