মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে গজারিয়া থানায় আহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতিজা মো. আসাদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে এবং আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, এজাহারভুক্ত আসামি পারভেজ (৪০) কে মঙ্গলবার রাতেই বালুয়াকান্দি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আহত মুক্তিযোদ্ধা অহিদুজ্জামান (নাইম) (৭২) উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সালিশ চলাকালে একপর্যায়ে অহিদুজ্জামান নাইম একা মহাসড়কের পাশে গেলে একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও দনিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তুহিন প্রধানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে তাঁর একটি হাত ও একটি পা ভেঙে যায় এবং মাথার পেছনে গভীর আঘাত লাগে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত তুহিন প্রধানের বাবা খোকন প্রধানের সঙ্গে আগে থেকেই জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল আহত মুক্তিযোদ্ধার।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জানান, আহতের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
আহত মুক্তিযোদ্ধা অহিদুজ্জামান নাইম বলেন, সালিশ শেষে বের হওয়ার পরই তাঁকে ঘিরে ধরে হামলাকারীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।