মুক্তিযুদ্ধ, ৭ই মার্চ কিংবা শেখ মুজিবের নাম ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার ৭ মার্চ ফরিদপুরের আম্বিকা ময়দানে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন এবং বলেন, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আবারও অন্যায়কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্টদের কোনো ক্ষমা নাই। ফ্যাসিস্টদের ও তাদের দোসরদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই। ওসমান হাদীকে যারা হত্যা করেছে, সেই খুনিদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হতেই হবে। এ পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়াবো। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ দাঁড়াবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল প্রতিশোধ নয়, বরং বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অংশ। কিন্তু সেই ইতিহাসের নাম ব্যবহার করে যারা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তার অভিযোগ, গত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শক্তি শেখ মুজিবের নাম, ৭ই মার্চের নাম এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে নিজেদের অপকর্মকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নামে লুণ্ঠন, গুম, খুন ও গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এখনো একই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই ধরনের অপচেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না। যারা সত্যিকার অর্থে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে তাদের সংস্কারের পক্ষে দাঁড়াতে হবে, বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে হবে এবং একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে। তার মতে, রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।
সরকারের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিগত শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছিল, তা দেশের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ—সবকিছু একদলীয় প্রভাবের অধীনে চলে গিয়েছিল। একই প্রবণতা বর্তমান সরকারের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দিনের শুরুতেই আকাশ দেখলে বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে। এই সরকারের শুরু দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা বাংলাদেশকে কোন দিকে নিয়ে যেতে চায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন প্রত্যাশা নিয়ে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনও বিতর্কমুক্ত থাকেনি। তার দাবি, সেই নির্বাচনকে নানা উপায়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদের আদেশ অনুযায়ী দুইটি শপথ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারি দল সেই শপথ নেওয়ার পরই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেইমানি করেছে।