পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
প্রায় দুই বছর আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. দেলোয়ার মৃধার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে মহিপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টায় মহিপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার মৃধা বলেন, প্রায় দুই বছর আগে একটি ছেলে-মেয়ের প্রেমঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তার নিজ দলের কিছু ব্যক্তি ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
তিনি জানান, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছোনখোলা এলাকায় আমেনা বেগমের মেয়ের সঙ্গে মঠবাড়িয়া এলাকার এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একদিন ওই যুবক মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে এলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে এবং পরে তাদের বিয়ে দিয়ে দেন। তবে ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর তার মানহানি করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিষয় জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেলোয়ার মৃধা দাবি করেন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিজাম ও রুহুল আমিন তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অপপ্রচার বন্ধের দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিষয়ও সামনে আসে। এ বিষয়ে স্থানীয় নাসা মৃধা বলেন, বারেক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের জমিজমা সংক্রান্ত লেনদেন তারা নিজেরাই মীমাংসা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন তাকে শিখিয়ে দেন যেন তিনি টাকা লেনদেনের বিষয়টি দেলোয়ার মৃধার সঙ্গে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এ সময় আমেনা বেগম বলেন, তার মেয়ে মিমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বরগুনা জেলার আজিজুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আজিজুল মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে এলে স্থানীয় কিছু যুবক তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি দেলোয়ার মৃধাকে জানালে তিনি মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন তাকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে দেলোয়ার মৃধার নাম বলতে শিখিয়ে দেন। বাস্তবে এ ঘটনায় দেলোয়ার মৃধার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন বলেন, ভিডিও করার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে ভিডিওটি আপলোড করেছে তা তিনি জানেন না।
এ প্রসঙ্গে মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফরিদ খান বলেন, বিষয়টি জানার জন্য সংশ্লিষ্টদের থানা বিএনপির কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ান কাজী, প্রচার সম্পাদক আল-আমিন হাওলাদার, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কুদ্দুস হাওলাদার, থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আল-আমিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান আকাশ, অর্থ সম্পাদক এম. পলাশ সরকার, সহযোগী সদস্য আল আমিন অনিকসহ অন্যান্য সদস্যরা।