রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
বরগুনার আমতলী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ব্যানার টানিয়ে দখলের চেষ্টা চালিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনের নীরবতায় এমন ঘটনা ঘটছে।
জানা গেছে, সোমবার সকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. ইসফাক আহমেদ ত্বোহা, সবুজ উদ্দিন ম্যালাকার ও মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাতসহ চারজন বিএনপি কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ব্যানার টানিয়ে দখলের চেষ্টা করেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এর আগে গত শুক্রবার উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মতিন খাঁনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা একইভাবে ব্যানার টানিয়ে কার্যালয় দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সে সময়ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে বিএনপি নেতারা দাবি করেন।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যালয়টি তাদের একাংশ দখলে নিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উৎসাহিত হচ্ছেন বলেও দাবি বিএনপি নেতাদের।
বিএনপি নেতারা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৩ নভেম্বর রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গাজী মো. সামসুল হকের বাড়ির সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. ইসফাক আহমেদ ত্বোহা বলেন, ওই অফিসটি আগে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ছিল। ৫ আগস্টের পর বিএনপির একাংশ সেটি দখল করে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই আমরা ব্যানার টানিয়েছি। এখানে বিএনপির কোনো কার্যালয় নেই।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধা বলেন, পুলিশ প্রশাসনের নীরবতার কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতারা বারবার বিএনপি কার্যালয় দখলের চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্যানার টানিয়ে কার্যালয় দখলের চেষ্টাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।