সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসের আতঙ্কে ফুলপুরী পরিবার, প্রাণনাশের শঙ্কা

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের র‌্যাগিংয়ের শিকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফুলপুরী খাতুন ও তার পরিবারকে শারীরিকভাবে হেনস্তা, তুলে নিয়ে যাওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি এবং পারিবারিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। […]

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসের আতঙ্কে ফুলপুরী পরিবার, প্রাণনাশের শঙ্কা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০১ মার্চ ২০২৬, ২৩:৩৩

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়:

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের র‌্যাগিংয়ের শিকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফুলপুরী খাতুন ও তার পরিবারকে শারীরিকভাবে হেনস্তা, তুলে নিয়ে যাওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি এবং পারিবারিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি নিজেদের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আওয়ামী আমলে কেস করতে গিয়েও লাভ হয় নাই। এখন তো নতুন সরকার, এখনও কি সন্ত্রাসী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হবে? আমরা আর কতোদিন এমন নির্যাতনের শিকার হবো? পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলা একদন্ত ইউনিয়ন আমাদের গ্রাম শিবপুরসহ আশেপাশের গ্রামে এতো এতো সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ, এদের জন্য সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের মান নষ্ট হয়। এগুলোর কি কোনো প্রতিকার হবে না? আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?’

নিরাপত্তা শঙ্কার অভিযোগ তুলে তিনি লিখেন,‘রাতে ঘুমাতে পারি না, বাড়ি এসে থাকতে পারি না কোনো ভাই বোনই। সন্ত্রাসীরা রাত দিন নাই যখন তখন বাড়িতে এসে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। ৫ বছর ধরে বাড়ির জায়গা নিয়ে ঝামেলা করে আমাদের বাড়ির সামনের সব জায়গা দখল করে নিয়েছে। আজ কাটাতার দিয়ে আরও দখল করে নিতে আসছে। রাতে সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে এসে আব্বুকে খুঁজতেছিল। মেরে ফেলবো, হাত-পা কেটে ঝুলিয়ে রাখবো যেখানেই পায়। আব্বুকে পায় নাই, আম্মুর উপরে গরম দেখায়ে গেছে, এমন কি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিছে। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে এলাকায় সালিশির মাধ্যমে সমাধানেও কেউ আগায় না। ৫ বছর ধরে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা শান্তিতে থাকতে দেয় নাই, চেয়ারম্যান-মেম্বার সবাই মিলে আমাদের জিম্মি করে রাখছে। কথায় কথায় ছেলে মেয়েকে মেরে ফেলার, তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। আমাদের উপর জুলুম করে আমাদের নামেই মিথ্যা কেস দিলেও কোর্ট খারিজ করে দিছে। আমরা কোর্ট থেকে জমির সার্বিক রায় পেয়ে এসেও সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের সবকিছু দখল করে নিয়ে আমাদের ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে এলাকার মেম্বার।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাড়িতে সন্ত্রাসীরা মারতে আসছিল ধারালো অস্ত্র দিয়ে। সন্ত্রাসীরা কেমন হুমকি দিয়ে গেছে তার প্রায় এক মিনিটের একটা অডিও আছে। এরআগে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ভাই এসে বিনা কারণে গুন্ডামি করে মারছে। যে জমি দখল করে আছে সেই মারায়ছে ভাড়া করে এনে। সেসময় আমাদের বাড়ির ২টা স্মার্টফোন কেড়ে নিয়ে নষ্ট করে দিলেও আমরা কোনো বিচার পায়নি। কেউ বিচার করতেও আসে না, বলে সন্ত্রাসীরা যেতে নিষেধ করছে। নতুন সরকারের আমলেও কি আমরা সন্ত্রাসী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হবো? আমাদের পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে সেই দায় সরকারের।’

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফুলপুরীর বাবা আতাউর রহমান ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য। আওয়ামী আমলে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় আওয়ামীলীগের সমর্থকদের হুমকিতে ছিলেন। এছাড়া বর্তমানে আতাউর রহমানের পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে তারই মামাতো বোন নুর জাহান আক্তার নুপুরের। নুর জাহান স্থানীয় প্রভাবশালী টিপু বিশ্বাসীকে দিয়ে আতাউরের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। বিগত সময়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের সঙ্গে নুর জাহানের ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সেসব নেতা এখন জেলে থাকায় নুর জাহান বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী ফুলপুরী খাতুন বলেন, ‘আমার পরিবারের সবার জীবন হুমকিতে আছে। গতকাল অস্ত্র নিয়ে আমাদেরকে হুমকি দিয়ে যাওয়ার পর সারারাত ঘুমাতে পারিনি। স্থানীয়রা ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে বিষয়টি মিমাংসা করারও সাহস পাইনা। এছাড়া তারা পূর্বে আমার বাবাকে মারধর করেছে এবং গতকাল আম্মুকেও ধাক্কা দিয়েছে। আমি এসব ঘটনার বিচার এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’

অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস বলেন, ‘এটি তাদের পারিবারিক বিরোধ। আমি প্রতিবেশী হিসেবে তাদের ঝামেলার সময় সেখানে গিয়েছিলাম। তবে আমি এসব হুমকি-ধমকির সঙ্গে যুক্ত নই।’

পাবনার আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো।’

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।