মহরম হাসান মাহিম, খুলনা
খুলনা মহানগর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হতে পারে,এমন গুঞ্জনে সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। দলটির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই ফেসবুকে ‘সুখবর’ বা ‘চমক আসছে’এ ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়ে আলোচনা উসকে দিচ্ছেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, রমজানের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না।
দলীয় একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ফলাফল এবং কয়েকজন নেতার ব্যক্তিগত অপকর্ম নিয়ে হাইকমান্ড অসন্তুষ্ট। ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনকে সতর্কও করা হয়েছে। মাঠপর্যায় থেকে দলীয় নাম-পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তারা।
নেতারা আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রমজান-পরবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে খুলনা মহানগর কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনা হবে। তবে এর মধ্যে কেউ বড় ধরনের অপকর্মে জড়ালে বা সরকার ও দল বিব্রত হয় এমন কোনো ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি খুলনা মহানগর বিএনপির সর্বশেষ দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু-র অনুসারীদের কাউকেই কাউন্সিলর করা হয়নি। ফলে তারা প্রার্থী হতে পারেননি। দুই বছর মেয়াদি কমিটির এক বছর পেরোলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বড়বাজারকেন্দ্রিক রেলওয়ের জমি দখল, ব্যবসায়ীদের হুমকি, নৌপরিবহন খাত থেকে চাঁদা আদায়, মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ ওঠে। পুলিশও এসব বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ডকে অবহিত করেছে বলে জানা যায়। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সবাই নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে খুলনা সদর আসন হিসেবে পরিচিত এলাকায় দলের পরাজয়ের জন্য মহানগর কমিটির ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, মেয়াদের আগে কমিটি ভাঙার কোনো প্রশ্নই আসে না। ফেসবুকে যা চলছে, সবই গুজব।
এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কোনো সিদ্ধান্ত হলে তখন সবাই জানতে পারবেন।
রমজান শেষে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন গুঞ্জন কি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেবে, নাকি ‘চমক’ কেবলই সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকবে!