দীর্ঘদিন পর দেশের মাটিতে পা রাখায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–কে একনজর দেখার অপেক্ষায় নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন হাজারো নেতাকর্মী। রাজধানীর ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনাকে ঘিরে ভোর থেকেই জনতার ঢল নেমেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোররাতে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। স্লোগানে স্লোগানে মুখর চারপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কণ্ঠে শোনা যায়—‘বগুড়ার মাটি, তারেক ভাইয়ের ঘাঁটি’, ‘মা, মাটি ডাকছে—তারেক রহমান আসছে’, ‘তারেক ভাই বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘তারেক রহমান ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’—এমন নানা স্লোগান।
ঠান্ডা উপেক্ষা করেই ভোররাত থেকে মানুষ জড়ো হয়েছেন। অনেকেই জানান, শীত কোনো বিষয় নয়—নেতাকে একনজর দেখাই তাদের লক্ষ্য। বগুড়া থেকে আসা শামসুল বলেন, তিনি আগের দিন দুপুরেই এসে সারারাত রাস্তায় কাটিয়েছেন। ভোলা থেকে আসা মহসিন জানান, এত দূর থেকে ছুটে আসার একটাই কারণ—নেতাকে একনজর দেখা।
প্রায় দেড় যুগ পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি ‘রাজসিক প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে দেখছে। বিমান সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিমান–এর ফ্লাইট বিজি–২০২, বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭–৯০০ উড়োজাহাজে তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। রুটটি লন্ডন হিথ্রো–সিলেট–ঢাকা। উচ্চপদস্থ যাত্রী থাকায় ফ্লাইট পরিচালনায় বিশেষ সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইটে তারেক রহমানের জন্য বিশেষভাবে A1 সিট বরাদ্দ রাখা হয়।
বিমানটি বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে, বুধবার লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাসা থেকে হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
এদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দলটির পক্ষ থেকে সংবর্ধনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে বুধবার থেকেই রাজধানীমুখী মানুষের ঢল নামে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।