পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় ট্রাজেডি উল্লেখ করে এই ঘটনার পেছনে ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্য ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মহাখালী রাওয়া ক্লাবে ‘বিডিআর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে শহীদ পরিবারের মতপ্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাকিন আহমেদ ভূঁইয়ার দাবি, “শেখ হাসিনা ভারতের স্বার্থে ও নিজের ক্ষমতা সুদৃঢ় করতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ভারতবিরোধী কোনো সেনা কর্মকর্তা থাকলে তাদের পরিণতি যেন পিলখানার মতোই হবে—এ বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।”
তিনি আরও বলেন, “এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে। নতুন প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। মির্জাফরদের বিচার না করলে এ ধরনের আরও ঘটনা ঘটতে পারে।”
এর আগে রোববার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান এবং অন্যান্য সদস্যরা এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
কমিশনে ছিলেন মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), যুগ্মসচিব (অব.) মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ডিআইজি (অব.) ড. এম. আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।
শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—এই প্রতিবেদন অনুযায়ী দ্রুত বিচার শুরু না হলে দেশের নিরাপত্তা আবারও হুমকির মুখে পড়বে।