আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার সংবাদদাতে বলেছেন—ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাননি; তিনি যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী মো. আমির হোসেন এই মন্তব্য করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আমির হোসেন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি দুটো জবাব দিয়েছেন—প্রথমত, তার আসামি (শেখ হাসিনা) পালিয়ে যাননি; পরিস্থতি এমন ছিল যে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “উনি বলেছিলেন—প্রয়োজনে এখানে আমাকে হত্যা করে মাটি দাও, তবু আমি যাবো না।
কিন্তু তখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে হেলিকপ্টারে তাকে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। দেশের মানুষ দেখেছে কীভাবে তিনি গেছেন। পালিয়ে যাওয়া মানে চোরের মতো লুকিয়ে থাকা—সেজন্য আমি পালিয়ে যাওয়ার কথাটা মেনে নিই না।”
দ্বিতীয়ত, তিনি ব্যাখ্যা করেন মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার (জেনোসাইড) সংজ্ঞা নিয়ে—যেখানে একটি সম্প্রদায় বা জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া থাকে। তিনি বলেন, সেই অর্থে এখানে জেনোসাইডের সংশ্লিষ্ট প্রমাণ নেই। তিনি যোগ করেন, “বাদীপক্ষ যেন ন্যায়বিচার চান, আসামিপক্ষও ন্যায়বিচার চায়; ন্যায়বিচার নিশ্চয়তা দেওয়ার দায় ট্রাইব্যুনালের।”
এছাড়া তিনি স্মরণ করিয়ে দেন—একজন রাজনৈতিক দলের নেতা বিদেশে থাকাকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেউ দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হতে বলেছিলেন; কিন্তু পরে তিনি নিজে দেশে আসেননি। আমির হোসেনের মত, সন্দেহাতীতভাবে রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মামলার প্রমাণে সফল হতে পারেনি, তাই তারা সম্মানে খালাস পাবেন—এটাই তার প্রত্যাশা।
প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে এসব কথা প্রদত্ত হয়; মামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ট্রাইব্যুনাল যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা দেশের ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর রাখার বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হবে।