বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সাধারণ কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও অভিবাসন সহযোগিতার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ বিন সোলাইমান আল-রাজী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো সাধারণ কর্মী নিয়োগ বিষয়ক চুক্তি। এর আগে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো হতো অনানুষ্ঠানিকভাবে। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২৭ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত, যারা বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান।
চুক্তি অনুসারে এখন বাংলাদেশ থেকে দক্ষ, আধা-দক্ষ ও সাধারণ কর্মী পাঠানোর সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি কর্মীদের অধিকার, নিরাপদ অভিবাসন, আকামা নবায়ন ও সময়মতো এক্সিট ভিসা প্রদানের বিষয়গুলো আরও সুসংহত হবে।
বৈঠকে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা প্রশিক্ষণ ও স্কিল সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করে দক্ষ শ্রমশক্তি প্রেরণ করব।” সৌদি মন্ত্রী আহমেদ আল-রাজী বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার অংশীদার। এই চুক্তি মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।”
এছাড়া দুই দেশ যৌথভাবে প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন, ডিজিটাল নিয়োগ যাচাইকরণ ব্যবস্থা এবং নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মনিটরিং সিস্টেম গড়ে তুলবে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, যা রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক সম্পর্ক উভয় ক্ষেত্রেই বড় সাফল্য বয়ে আনবে।