নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ শুনানিকে ঘিরে সৃষ্ট ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের পর এখন নতুন করে মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের সীমানা শুনানিতে বিএনপি ও এনসিপির পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পর সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ রুমিনকে আক্রমণ করে তাকে “বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক” আখ্যা দেন। এর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি রুমিন।
সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে হাসনাতের অতীত ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। রুমিন লেখেন—
“এটা ঐ ফকিন্নির বাচ্চাটা না, যে আমাকে আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক বলেছে?”
ওই পোস্টে রুমিন একাধিক ছবি যুক্ত করেন। একটিতে দেখা যায় হাসনাত ছাত্রলীগের দেয়াললিখনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে লেখা—
“সেই তো ধন্য যে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের গর্বিত কর্মী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।”
এছাড়া ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে হাসনাতের দেওয়া পোস্ট, দৈনিক ইত্তেফাকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তার ছবি এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সম্পাদক পদে মনোনয়নের একটি চিঠিও তুলে ধরেন রুমিন।
তবে রুমিনের এসব অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, রোববারের শুনানিতে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা ইসির খসড়ার পক্ষে বক্তব্য দেন। আর এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরছিলেন। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোল হয়।
পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত শুধু রুমিনকে কটাক্ষ করেননি, বরং তাকে
“গত সরকারের সুবিধাভোগী” হিসেবেও আখ্যা দেন। বলেন, “বিগত ১৫ বছর নাকি উনি অনেক ভালো ছিলেন। উনি অবশ্যই ভালো থাকবেন। কারণ উনি যত ধরনের সুবিধা রয়েছে, সব ধরনের সুবিধা উনি নিয়েছেন।”
এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে রুমিনের কঠোর ভাষার পাল্টা জবাব আবারও এনসিপি নেতাদের মুখ থেকে আসবে কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।