কুমিল্লার মুরাদনগরে স্থানীয় এক সরকারি উপদেষ্টার বিরুদ্ধে লাগাতার ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি ও দখলবাজি করা হচ্ছে। মুরাদনগর এখন এর জ্বলন্ত উদাহরণ।”
ফখরুল দাবি করেন, ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদপুষ্ট ওই উপদেষ্টা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রভাবিত করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, “বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে চাঁদা দিতে বাধ্য করা—এসবই চলছে প্রকাশ্যে। প্রশাসন নির্লিপ্ত, কারণ নির্দেশ উপর থেকে।”
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, “সরকার নিজের স্বার্থে কিছু লোককে ‘ডন’ বানিয়ে দিয়েছে। তারা এখন জমি দখল, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনকে ব্ল্যাকমেইল করা—সব করছে।” তিনি আরও বলেন, “মুরাদনগরে এই উপদেষ্টা প্রশাসনের কাছে অঘোষিত শাসক হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকছে, কোনো বিচার পাচ্ছে না।”
ফখরুল বলেন, “আমরা বারবার বলেছি, সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। এখন স্থানীয় পর্যায়ে ‘ছোট স্বৈরতন্ত্র’ তৈরি হয়েছে। মুরাদনগরের ঘটনা দেশের নানা প্রান্তেই ঘটছে।”
তিনি অবিলম্বে ওই উপদেষ্টাকে অপসারণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কোনো অভিযোগ লিখিতভাবে পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা ফখরুলের অভিযোগকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন।