তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অসামান্য অবদান এবং শূন্য অপচয়ের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী সমর্থনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক শূন্য বর্জ্য দিবসের’ উচ্চ পর্যায়ের স্মরণসভায় তাঁর মূল বক্তব্যে এই প্রশংসা করেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এমিন এরদোয়ান তাঁর ভাষণে ফ্যাশন ও টেক্সটাইল বর্জ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং বর্তমান রৈখিক উৎপাদন মডেলের ধ্বংসাত্মক প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী ভোগের ধরণে জরুরি পরিবর্তন আনার সময় এসেছে। গ্রহের ভবিষ্যত রক্ষার জন্য আমাদের বর্জ্য হ্রাস, পুনঃব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহারের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।”
তুরস্কের ফার্স্ট লেডি বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে শূন্য অপচয় উদ্যোগ চলছে তা কেবলমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্যই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তার এই অসামান্য প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তুলবে।”
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই অনুষ্ঠানে সাধারণ পরিষদের সভাপতি, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং ইউএনইপি ও ইউএন-হ্যাবিট্যাটের নির্বাহী পরিচালকরাও বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তৃতায় বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বর্জ্য সমস্যা ও তার সমাধানে শূন্য অপচয় নীতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এছাড়া, টেক্সটাইল বর্জ্যের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের নেতা ও কর্মীরা তাদের মূল্যবান চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন। তারা সবাই একমত যে, বর্তমান উৎপাদন ও ভোগের ধরণ পরিবর্তন করা না হলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও গুরুতর আকার ধারণ করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের টেকসই টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে দেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা এ ক্ষেত্রে আরও নতুন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশায় রয়েছি।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ানের এই অভিনন্দন বার্তা এবং জাতিসংঘের শূন্য অপচয় দিবসের আলোচনায় বাংলাদেশের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। বিশেষত, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে চলমান টেকসই উদ্যোগকে বৈশ্বিক মঞ্চে স্বীকৃতি দেওয়া দেশের ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ এবং তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কের আরো মজবুত ভিত্তি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উভয় দেশের যৌথ প্রচেষ্টা বৈশ্বিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব বলে কি আপনি মনে করেন?