রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে চিকিৎসক দল। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর আজ মধ্যরাত থেকে আগামীকাল সকাল—এই সময়ের মধ্যেই লন্ডনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। তাকে কাতার রয়েল এয়ারওয়েজের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লন্ডনের চিকিৎসা সুবিধা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাই বর্তমানে তার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বলে চিকিৎসকেরা মনে করছেন।

চিকিৎসা–সহায়ক এই যাত্রায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৬ জন চিকিৎসক এবং ২ জন গৃহপরিচারিকা—ফাতেমা বেগম ও রুপা সিকদার। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত সহায়তায় ফাতেমা বেগমের ভূমিকা দীর্ঘদিনের।

২০১০ সাল থেকে তিনি খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী হিসেবে আছেন। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তিনিও স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে কারাগারে অবস্থান করেন—যা সে সময় ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়। হাসপাতালে ভর্তি হন বা বাসায় থাকেন—খালেদা জিয়ার আশপাশে ফাতেমাকে সর্বদা দেখা যায়।

রুপা সিকদারও দীর্ঘদিন ধরে গৃহপরিচারিকা হিসেবে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহায়তায় কাজ করছেন। দু’জনের উপস্থিতি লন্ডনে চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রয়োজনীয় শারীরিক সহায়তা ও ব্যক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৯ নভেম্বর কাতার সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠান। কাতার দ্রুত সাড়া দিয়ে জানায়—বেগম জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দিতে দেশটি প্রস্তুত। সেই অ্যাম্বুলেন্সেই তাকে লন্ডনে পাঠানোর চূড়ান্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্র ও নতুন করে নিউমোনিয়ার জটিলতা বাড়ায় তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে যায়। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক বোর্ড তাকে বিদেশে চিকিৎসায় নেওয়ার সুপারিশ করে।

দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া–মুনাজাত চলছে, আর এ মুহূর্তে তার লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।