ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর ঘটনার সঙ্গে জড়িত শ্যুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী মোটরবাইক চালক আলমগীর হোসেন ঘটনার দিনই দেশ ছাড়েন বলে বিশেষ গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ১২ ডিসেম্বর হামলার পরপরই তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ভারতে প্রবেশের পর ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি ভারতীয় মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে দেওয়া হয়, যা সরবরাহ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে।
সূত্র জানায়, ফয়সাল করিম মাসুদ ওই ভারতীয় নম্বর (+৯১৬০০১৩৯৪০**) ব্যবহার করে ১৩ ডিসেম্বর রাতে একাধিক ব্যক্তিকে নিজের সেলফি পাঠান। এই নম্বর থেকে পাঠানো ছবিগুলোর একটি ইন্টারসেপ্ট করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে। যাচাইয়ে ছবিটি ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে তোলা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, গুয়াহাটিতে অবস্থানকালে ফয়সাল করিম মাসুদ নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন এবং তাকে সেখানেই শেল্টার দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই আশ্রয় ব্যবস্থার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও সীমান্তপারের সহায়তা কাজ করছে।
এদিকে ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত শ্যুটার ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন অভিযোগ করছে, সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থায় গুরুতর ব্যর্থতা।
ঘটনাটি নিয়ে এখনো সরকার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।