বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, এই সরকার পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাংলাদেশে থাকবেন না।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “যাদের ডুয়েল সিটিজেনশিপ নাই, তাদেরও অধিকাংশ সন্তান বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তারা বিদেশে ফিরে যাবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক।”
রুমিন ফারহানা বলেন, “সেফ এক্সিট শব্দটার বিভিন্ন অর্থ আছে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যেমন রাজনৈতিক দলগুলোতে ভাঙন সৃষ্টি করে নতুন নেতৃত্ব তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, এখনো সেই ধরনের অপকৌশল দেখা যাচ্ছে।
সেই সময় মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনরা চেষ্টা করেছিলেন দুই বড় দলের নেতৃত্ব সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরির। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং তারা পরবর্তীতে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়। আজকের সরকারও এক ধরনের সেফ এক্সিটের দিকে এগোচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্যই বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসরত বা ডুয়েল সিটিজেনশিপধারী। “অনেকে বিদেশের নাগরিক, আবার কেউ কেউ বিদেশে চাকরিরত অবস্থায় বাংলাদেশে এসে উপদেষ্টা হয়েছেন,” বলেন রুমিন।
তার ভাষায়, “প্রধান উপদেষ্টাই বলেছেন, সবাই যার যার পেশাগত জীবনে ভালো করছেন, এবং সময় হলে আবার সেই কাজেই ফিরে যাবেন। তাই বিদেশে নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিরা সুযোগ পেলে পুরনো জীবনে ফিরে যাবেন, এতে অবাক হবার কিছু নেই।”
রুমিন ফারহানা বলেন, “যারা ডুয়েল সিটিজেনশিপধারী নন, তাদেরও সন্তানরা বাইরে সেটেল। তাই তারা যদি কোনো রাজনৈতিক বিপদের আশঙ্কা অনুভব করেন, তাতেও বিদেশে চলে যাবেন।” তিনি মনে করেন, সরকারের প্রভাবশালী অনেকেই প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের নাগরিক না থাকায়, সরকার পরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক চেহারায় বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।