‘গ্লোবাল সুমুদ মিডিয়া ফ্লোটিলা’-তে অংশ নিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইতিহাস গড়লেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী, শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম। গাজার অবরুদ্ধ মানুষদের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাহাজ নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বহর। সেই অভিযানে সরাসরি যোগ দিয়ে শহিদুল আলম শুধু বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বই করেননি, বরং বিশ্বমঞ্চে মানবিকতার পক্ষে সাহসী অবস্থানও তুলে ধরেছেন।
ড. শহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়ের আন্দোলনে সক্রিয়। আলোকচিত্রকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেছেন। তার কাজ নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট থেকে শুরু করে লন্ডনের টেট মডার্ন পর্যন্ত প্রদর্শিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি পরিচিত কণ্ঠ, যিনি নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সবসময় দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন।
এই ফ্লোটিলায় অংশগ্রহণ করে তিনি শুধু মানবিক সহায়তার প্রতি সংহতি জানালেন না, বরং ইসরাইলের অবৈধ অবরোধের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত তৈরির অংশীদারও হলেন। কারণ, ফ্লোটিলার লক্ষ্যই হলো— গাজায় বছরের পর বছর ধরে চলমান অবরোধ ভেঙে মানবিক ত্রাণ পৌঁছানো এবং ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে আন্তর্জাতিকভাবে দাঁড়ানো।
ফিলিস্তিন দূতাবাস ড. শহিদুল আলমের এই অংশগ্রহণকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে অভিহিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, তার উপস্থিতি শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষদের অনুপ্রাণিত করবে। দূতাবাসের মতে, “ড. শহিদুল আলমের মতো একজন মানবাধিকারকর্মীর ফ্লোটিলায় থাকা প্রমাণ করে, ফিলিস্তিনের সংগ্রাম আর মানবতার সংগ্রাম আসলে অভিন্ন।”
ড. শহিদুল আলমের এই ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য গৌরবের এবং বিশ্ব মানবাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।