আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচারাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে আল জাজিরা ও বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি।
তার মতে, এসব রিপোর্টে সরকার নয়, বরং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) এক আলোচনা সভায় গোলাম মাওলা রনি বলেন, “যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা নিজে গঠন করেছিলেন, সেই আদালতেই আজ তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে। একসময় এই আদালত জামায়াত নেতাদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল, আর এখন সেখানে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে একটি মামলায় তার দণ্ড হয়েছে। বাকি মামলাগুলোতেও যেন সর্বোচ্চ সাজা হয়, সে চেষ্টাই হচ্ছে। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের সময় হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো, হাসপাতালে চিকিৎসা না দেওয়া, নিরাপরাধ মানুষ হত্যা—এসব অভিযোগ সরাসরি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা সেসব তথ্য আদালতে উপস্থাপনও করেছেন।”
আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদন নিয়ে রনি বলেন, “দেশের মাত্র এক শতাংশ মানুষ এসব রিপোর্ট দেখেছে। দশ হাজারে একজন পুরো রিপোর্টটি দেখেছে। কিন্তু এরপরও দেশে কোনো গণপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি। বরং আওয়ামী লীগ নেতারা বলছে—হ্যাঁ, আমরা গুলি চালিয়েছি; না করলে দেশ চালানো যেত না।”
তার মতে, এসব ঘটনার পরও সরকারের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ায় তেমন অগ্রগতি নেই, কারণ মিডিয়া রিপোর্ট দিয়ে বিচার হয় না, দরকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ।
তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে আমরা বহু ক্ষমতাশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ করেছি—সালমান এফ রহমান, হারুন রশীদ, সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে—তবু তাদের বিরুদ্ধে আদালতে কিছু হয়নি। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই জটিলতা কাজ করছে।”