রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে নৃশংসভাবে ব্যবসায়ী সোহাগকে কুপিয়ে ও মাথায় পাথর দিয়ে হত্যা করার ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘটনার বীভৎসতা এবং এর পেছনের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেন।
স্ট্যাটাসে আনসারী লেখেন, “স্বৈরাচার পতনের পরবর্তী এই বাংলাদেশে মিটফোর্ডের সামনে সোহাগের থেঁতলে যাওয়া মস্তিষ্ক—ভাবতেই শিহরিত হই, কল্পনাতেও যা অসম্ভব।” তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম, স্বৈরাচারবিরোধী লড়াই, ছাত্রনেতাদের আত্মত্যাগ—সবকিছুর পরও এমন বীভৎস সহিংসতা আজও থামেনি।
আনসারী অতীতের শহীদ ছাত্রনেতাদের স্মরণ করে লেখেন, “জুলাইয়ের মহাকাব্যে শহীদ আবু সাঈদের প্রসারিত দুই হাত ছিল যেন উত্তাল সাগরের ঢেউ—যা আছড়ে পড়েছিল হাসিনা-শাহীর হেরেমের শ্বাসরুদ্ধ দেয়ালে। হাজার বুলেটের মুখেও অটল ছিলেন ওয়াসিম, ছিলেন মুক্তির অনলস প্রতীক।”
তিনি আবেগভেজা ভাষায় উল্লেখ করেন ছাত্রদল নেতা জনিকে—যার বুক ঝাঁজরা করে দিয়েছিল পুলিশের গুলি। আনসারী লেখেন, “জনির প্রিয়তমার কান্নাজড়িত প্রশ্ন আজও কানে বাজে— ‘একটা মানুষের বুকে কয়টা গুলি দরকার হয়েছিল?’”
মুশফিকুল ফজল আনসারী এই শহীদদের তুলনা করেন গ্রিক পুরাণের ইকারুসের সঙ্গে—যারা জানতো উড়লেই পুড়তে হবে, তবুও উড়েছিল জনগণের মুক্তির নেশায়। তিনি বলেন, “আজও সেই রক্তের ঋণ শোধ হয়নি। বরং আমরা এমন এক দেশে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে প্রকাশ্য রাজপথে থেঁতলে দেওয়া হয় মানুষের মস্তিষ্ক।”
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, “প্রার্থনা সোহাগের জন্য— শোক ও বেদনায়।”