নোয়াখালীতে রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ব্যানার টানানোর ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে অবস্থিত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা অফিসের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানিয়ে সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচিতে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলনের সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে কার্যত বন্ধই ছিল অফিসটি। হঠাৎ করেই বুধবার সকালে কয়েকজন নেতাকর্মী এসে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টানান।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগেই এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
ঘটনার একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটি আইডি থেকে ফেসবুকে লাইভ করা হয়। সেখানে লেখা হয়, আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করব ইনশাল্লাহ, আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ,,,
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। কে বা কারা করেছে তা দেখে পরবর্তীতে জানাতে পারব।
রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও দলীয় কার্যালয়ে এভাবে প্রবেশ ও কর্মসূচি পালন ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের অবস্থান এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখন দেখার বিষয়।