গণভোটে উল্লেখিত ম্যান্ডেটকে সরকার ভায়োলেট করতে চাইলে ব্লান্ডার হবে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয় অথবা বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে আমাদের জোট এবং আদালতের ভেতরে এবং বাইরে উভয় জায়গায় প্রতিবাদমুখর হয়ে আমরা কাজ করবো।
“ইন্টেরিম গভার্মেন্টের কোন ইনিশিয়েটিভকে যদি অ্যাকসেপ্ট করতে না চান তাহলে আল্টিমেটলি নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। যে নির্বাচনের মাধ্যমেই এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে এটাও একটা ইন্টেরিম ম্যানেজমেন্ট যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের অধীনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, কেউ যদি এটাকে অস্বীকার করে তখন তার নিজের অস্তিত্বই থাকবে না।
কেউ যদি ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট গঠন প্রক্রিয়া, তার কর্মকাণ্ড— এগুলোকে বৈধতা দিতে না চান তাহলে নিজের বৈধতা আসবে কিভাবে?”
তিনি বলেন, “ফলে আমি মনে করি অবশ্যই ইন্টেরিম গভর্মেন্টের যেসব কাজ করেছেন, সংস্কার কাজ করেছেন, বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করেছেন— অধ্যাদেশ থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তার মধ্যে সেপারেট জুডিসিয়াল সেক্রেটারিয়েট অধ্যাদেশ জারি করেছেন।
এগুলোর ব্যাপারে বর্তমান সরকার সেমভাবে কাজ করবেন; এগুলোকে অ্যাক্টে রূপান্তর করবেন। যদি রূপান্তর না করেন তাহলে মাঝখানে যে গ্যাপ হবে এই গ্যাপটা ফুলফিল না করার কারণে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন হবে।”
শিশির মনির আরও বলেন, “গণভোটের ম্যান্ডেটকে যদি সরকার ভায়োলেট করতে চায় তাহলে এটা পলিটিক্যাল ব্লান্ডার হবে; একই সঙ্গে লিগাল ব্লান্ডার হবে। কারণ দেখেন এখানে বলা আছে জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপূর্ণ সংস্কার রাজনৈতিক দলের তিনটা প্রশ্ন ওপরে সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে। এর বাইরে যেগুলো অপরাপর সংস্কার আছে সেগুলোর ব্যাপারে তারা তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।
কিন্তু যে তিনটা সুনির্দিষ্ট বলা আছে এগুলোর ব্যাপারে নিজের মত করে ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে না। যদি নেন তাহলে গণভোটের এই ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করা হবে।”