কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলে ফলাফল যাই হোক মেনে নেব বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত জোটে মনোনীত রিকশা প্রতিকের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর আমীর মোঃ মামুনুল হক।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ রোডের সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মামুনুল হক। এরপর কেন্দ্রের বাইরে তিনি এসব বলেন।
মামুনুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত যতটুকু দেখেছি পরিবেশের কোন সমস্যা দেখিনি। ভোটার উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে না। খুব বেশি না মোটামুটি। কিছু মানুষ হিসেবে তারা ভোট দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
ফলাফল মেনে নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবের মামুনুল হক বলেন, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে কোন কৃত্রিম সংকট যদি তৈরি করা না হয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যদি নির্বাচন হয় এবং সাধারণ ভোটাররা যদি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে ফলাফল যাই হোক সেটা মেনে নেব।
রাতে অনেক ধরনের গুজব হয়েছে এবং অনিয়ম হয়েছে বিভিন্ন জায়গায় আপনার এলাকা এই ধরনের কোনো সংবাদ পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা ১৩ আসনে রাতে কিছু জায়গায় অনিয়মের সংবাদ কিছু কিছু কেন্দ্রে সন্দেহজনক আচরণের আমরা সংবাদ পেয়েছি। আমরা সে বিষয়টি যাচাই যাচাই করার সুযোগ পায়নি আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ঢাকায় ডিএমপির ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও রিজার্ভ ফোর্সের পাশাপাশি বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়াও সারা দেশের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র সদস্য রয়েছে সেনাবাহিনীর।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ভোটে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫শ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি’র ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।
অন্যদিকে নির্বাচনী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ৩শ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে জানা গেছে, ভোট পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে দেশে এসেছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন মাঠে থাকবেন।