জামায়াত পরাজয়ের আশঙ্কায় সহিংসতা, ভোটকেন্দ্র দখল, অবৈধ অর্থের ব্যবহার, কারচুপি ও জালভোটের পথ বেছে নিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভোটের আগের দিন ও রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির আটক, শরীয়তপুর, নেত্রকোণা, পটুয়াখালী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় অর্থসহ একাধিক নেতা-কর্মী আটক হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া পল্লবীতে দুই পোলিং এজেন্টের কারাদণ্ড, ভোটারদের টাকা বিতরণ, ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশ, জালভোটের চেষ্টা, সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলার অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনার কথাও তুলে ধরেন নজরুল ইসলাম খান। তার দাবি, এসব ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ভোট প্রদান ও ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ না করার জন্য। তার ভাষায়, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা যেন কোনোভাবে ব্যাহত না হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ এবং নির্বাচনি ইশতাহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই তাদের লক্ষ্য। তবে এ পথে নানা বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছে, ফলে নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং কিছু ঘটনায় গ্রেপ্তারও হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে উঠে আসা জামায়াত জোটের অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের কিছু অংশ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহ, দলের চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।