বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে চাননি কিন্তু জনগণ তাকে বাধ্য করেছে। তারেক রহমান যদি প্রধানমন্ত্রী হন এবং বিএনপি ক্ষমতায় যায়, তবে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার পথ বন্ধ করবেন না।
যেদিন দেশের মানুষ বলবে তারা তারেক রহমানের নেতৃত্ব চায় না, সেদিনই তিনি জনতার ক্ষমতা জনতার হাতে দিয়ে চলে আসবেন।’
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সমর্থনে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা বিএনপির নামে গিবত বলে বেড়াচ্ছে। আপনারা জানেন গিবত করা কত বড় অপরাধ। তারা বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি জান্নাত পাওয়া যাবে। আমাদের প্রিয় নবী কী কোনদিন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছেন? তারা কত বড় ভণ্ড ও প্রতারক। বছরের পর বছর বিএনপিকে দেখে মানুষের বিএনপির প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। মানুষ জানে বিএনপি কারো গোলামী করে না। দ্বিতীয় কারণ হলো জনগণ তারেক রহমানকে চিনেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ১৭ বছর চাঁদপুরবাসীর মনের আশা পূরণ হয়নি। যে চাঁদপুর ধানের শীষের ঘাটি। বহুদিন পর সে সুযোগ এসেছে। আপনারা কী ধানের শীষের ইতিহাস জানেন। এই মার্কা মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর যারা মাঠে ছিলো তাদের হাতেই ধানের শীষ তুলে দিয়েছেন। আমাকে পাঠিয়েছেন এই ধানের শীষ মানিক সাহেবের হাতে তুলে দেয়ার জন্য।
পরে তিনি চাঁদপুর-৩ আসনের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য আহ্বান জানান। জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে দেন চাঁদপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বক্তব্যে বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে যদি আপনারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন।
অনেকে অনেক পরিকল্পনা করছে। আপনারা কোনও পরিকল্পনায় পা দিবেন না। যদি কেউ কোনও অন্যায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাবেন। চাঁদপুরকে আমরা মাদক দুর্নীতি মুক্ত করবো। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করবো। আমরা সবাইকে নিয়ে চাঁদপুরের সকল সমস্যা সমাধান করবো। আপনারা ভোট গণনার রেজাল্ট ছাড়া ঘরে পিরে যাবেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জমিয়তে ইসলাম জেলা শাখার সভাপতি মুফতি সিরাজুল ইসলাম, জেলা গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জাকির হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মিয়াজী, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শফিউদ্দিন আহমেদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মাস্টার, সহ-সভাপতি মাহবুবুর
আনোয়ার বাবলু, জসিম উদ্দিন খান বাবুল, সদস্য মাহবুবুর রহমান শাহীন, সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, ডিএম শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সেলিম উস সালাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার মাঝি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন।