নোয়াখালী-২ আসনে জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন,
“আমার মতো মাস্তান বাংলাদেশে নাই। আপনারা যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না, তারা যদি জোটকে ভোট না দিয়ে কাপ-পিরিচের কাছে বিক্রি হন, সে হিসাব ১২ তারিখের পর হবে।”
সোমবার বিকেলে সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ধানের শীষের জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যে তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন,
“বিএনপির যারা বহিষ্কার হয়েছেন, আপনাদের উচিত ছিল স্বতন্ত্র বেঈমান প্রার্থীর পক্ষে ভোট না করে ক্ষমা চেয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট করতে আসা। তাহলে হয়তো আমি বলে দিতাম, তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে আমার কোনো আপত্তি নাই।”
তিনি আরও বলেন,
“আপনাদের যাদের বুকের মধ্যে ধানের শীষ বাজে, কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাপ-পিরিচে ভোট করছেন, আল্লাহ আপনাদের ক্ষমা করবেন না।”
নিজের গাড়িতে হামলার অভিযোগ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন,
“আমার গাড়ি ভেঙেছেন। তবে এতে সেনবাগের কোনো লোক জড়িত নাই। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও ফেনীর দাগনভূঁইয়া থেকে ২২ জন মাস্তান এনে আমার লোকের ওপর হামলা করেছেন। খবর পেয়ে আমার ১০ হাজার নেতাকর্মী বাজারে উঠেছে। আমি বলেছি, আমাকে মেরে আমার লাশের ওপর দিয়ে কাপ-পিরিচে হামলা করো।”
তার এই বক্তব্য জনসভায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন,
“আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ ২৮০ আসনে জিতবে এবং তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তাই স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন, তারা ধানের শীষের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাপ-পিরিচে ভোট দিতে পারেন না।”
তার বক্তব্যে বারবার স্বাধীনতা ও দলীয় আনুগত্যের প্রশ্নটি গুরুত্ব পায়।
জানা গেছে, নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। একই আসনে কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ব্যবসায়ী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।