বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদীয় প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে মিরপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন। গণমিছিলের শুরুতে তিনি বলেন,
এই রাজনৈতিক লড়াই কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সংগ্রাম। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পথে এগোবে, নাকি আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে। আজাদি না গোলামি—এই প্রশ্নের চূড়ান্ত ফয়সালা হবে ভোটের দিন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের বিষয় নয়; এই ভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির রাজনীতি চলবে কি না এবং দেশের মা-বোনেরা নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবে কি না। বিকেলে আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকা থেকে শুরু হওয়া গণমিছিলটি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিরপুর এলাকায় পৌঁছায়। আগারগাঁও থেকে তালতলা হয়ে মিরপুর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মূল সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলিতে মানুষের ঢল নামে। গণমিছিলে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
একই দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঈদগাহে ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে পাহারা বসানোর আহ্বান জানান। তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, একটি পক্ষ ও পরিবার জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং হারের ভয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। তিনি প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনে কারচুপি হলে তা ক্ষমা করা হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে জয়ী হলে মামুনুল হক মন্ত্রী হবেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনিও নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, কারচুপি হলে ছাড় দেওয়া হবে না। জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, এখন থেকেই ভোট পাহারা শুরু করতে হবে। জালিয়াত, ভোটচোর ও অবৈধ ইঞ্জিনিয়াররা যদি জনগণের ভোট নিয়ে খেলতে চায়, তবে তা শক্ত হাতে রুখে দিতে হবে। বিজয়ের মালা পরিয়ে দিয়েই ঘরে ফিরতে হবে।
তিনি বলেন, যারা ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে, জনগণ তাদের অতীতে দেখেছে এবং শান্তিপ্রিয় মানুষ এবারও তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। যারা জনগণের পক্ষে ও জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে আছে, তারাই বিজয়ী হবে। ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ হেরে যাওয়ার ভয়ে হতাশ হয়ে চোরাইপথে নির্বাচন হাইজ্যাকের চিন্তা করছে, গুন্ডা লেলিয়ে দিচ্ছে, অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তুলছে এবং ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করছে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তরুণরা ১২ ফেব্রুয়ারি একই রায় দেবে। কেউ যদি সেই রায় ভয়ের কারণে চোরাইপথে বদলাতে চায়, জাতি তা ক্ষমা করবে না।
আমলা ও সচিবদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কিছু অসৎ আমলা ও সচিব এখনো দলবাজি করে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে জেতানোর চেষ্টা করছে। কে জিতবে বা হারবে, তা নির্ধারণ করবে জনগণের ভোট। অতীতে অপরাধ করে যারা ক্ষমা পেয়েছে, ভবিষ্যতে আর সেই সুযোগ পাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিতর্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি করে দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার দুঃসাহস না দেখাতে সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ এমন দুঃসাহস দেখালে পরিণতি ভালো হবে না। জুলাইতে যেমন ফ্যাসিবাদ রুখে দেওয়া হয়েছে, আগামীতেও তেমনই রুখে দেওয়া হবে।
নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা হলে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে নেই। জনগণের ভোট কেউ ছিনতাই করতে পারবে না। তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট জুলাই আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং এই ঐক্য চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ ও সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে বিজয় নিশ্চিত বলেও তিনি দাবি করেন।
ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের রিকশা প্রতীকে ভোট চেয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রিকশা জনগণের প্রতীক, তরুণ প্রজন্ম ও নারী সমাজের প্রতীক, আধিপত্যবাদবিরোধী মানুষের প্রতীক। মামুনুল হক জয়ী হলে তিনি দেশ ও ঢাকা-১৩ আসনের জন্য মর্যাদাবান মন্ত্রী হবেন এবং সংসদে ইনসাফের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। একই দিনে জামায়াত আমির ঢাকা-১৫ আসনে নিজের জন্যও ভোট চেয়ে গণমিছিল করেন, যেখানে হাজার হাজার নেতাকর্মী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।