ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘পত্রপত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে নানা বিষয় উঠে আসছে। তারা ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে, এনআইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য মোবাইল নম্বর নিচ্ছে। এসব করে তারা যে কিছু করতে পারবে তা নয়, কারণ জনগণ এসবে বিভ্রান্ত হবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে সাবধান হতে হবে।’
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-১১–এর জন্য ১১ দফা প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এসময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে, ৩১ দফার সঙ্গে যদি অন্য দলের দফা ও পরিকল্পনা মেলে এবং বিএনপি যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে আলাপ–আলোচনার ভিত্তিতে কোয়ালিশন সরকার গঠন করার কথা ভাববে। যদিও এর সম্ভাবনা কম।
পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এ পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ-নাগরিক মিলে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। বিএনপি জনগণের দল।
গণতন্ত্রের জন্য কখনো আপস করেনি। তারা তো নির্বাচনই চায়নি। জনগণের প্রতি তাদের আস্থা নেই। এ সময় পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাব দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী খসরু বলেন, বিদেশিরা যখন বাংলাদেশে আসে তখন প্রথম প্রশ্ন করে আপনার বন্দরে টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম, ডেলিভারি টাইম কত? অ্যাফিসিয়েন্সি কী?- এটার ওপর নির্ভর করে তারা এখানে বিনিয়োগ করে। সুতরাং আগামী দিনের বন্দরের অ্যাফিসিয়েন্সি, টার্ন অ্যরাউন্ড টাইম, ডেলিভারি টাইম, কস্ট সবকিছু মিলিয়ে বন্দরকে ওই জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। যেখানে দ্যা গ্লোবাল বেস্ট প্রাকটিসেস আছে।
বিশ্বের বিভিন্ন বন্দর পরিচালনাকারীদের উদাহরণ নিলে এগিয়ে যাওয়া যাবে মন্তব্য করে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি খসরু বলেন, ‘ইনশল্লাহ বিএনপি যদি কেবিনেটের দায়িত্ব পায় আমরা গ্লোবাল বেস্ট প্রাকটিস যেটা আছে সেটাকে নিয়ে… চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাব করতে হলে তো এফিসিয়েন্সি বাড়াতে হবে। না হলে এখানে আসবে কেন মানুষ? সুতরাং আপনাকে এফিসিয়েন্ট হতে হবে, সার্ভিস দিতে হবে, কম্পিটেটিভ হতে হবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ প্রমুখ।