আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত সংশোধন করা না হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হবে।
শিশির মনির উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত এলাকার মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসারসহ মাত্র তিন শ্রেণির কর্মকর্তা ছাড়া আর কেউ মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার করতে পারবেন না।
সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ আদেশ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বিবেচনায় জারি করা হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
তবে শিশির মনিরের মতে, সাধারণ ভোটার, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য এ ধরনের সার্বিক নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্মুক্ততা ও স্বচ্ছতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করাই একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্যতম শর্ত।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মতো বিস্তৃত এলাকায় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ থাকলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করা সম্ভব হবে না। এতে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে শিশির মনিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার দাবি, মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর এমন কড়াকড়ি ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।