বরিশাল-৩ বাবুগঞ্জ–মুলাদী আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী এলাকায় গ্রাম্য মাস্তানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
রোববার বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট থেকে গণমিছিলের আগে ঈগল প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় চায়ের দোকানে বসে কিছু দুষ্ট লোক প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে এবং তার সঙ্গে কাজ করা কর্মীদের নির্বাচনের পর দেখে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, অনেক কর্মীকে আওয়ামী লীগ সাজিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হচ্ছে, যা পরিকল্পিত হয়রানিরই অংশ।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাওয়া ও ফিরে আসা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন,
কোথায় ইয়াবা মজুদ রয়েছে, কোথায় অস্ত্র রাখা হয়েছে এবং কোথায় ইটভাটায় বা চরাঞ্চলে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ চলছে—এসব তথ্য প্রশাসনকে জানানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চরাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মুলাদীর চরাঞ্চলগুলো দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত যৌথবাহিনী মোতায়েন জরুরি। প্রয়োজনে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের পাশাপাশি এয়ার সাপোর্ট দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। একই সঙ্গে যৌথবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শেষে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, আল্লাহ যদি তাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে তিনি সবার এমপি হবেন—যারা তাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, সবার প্রতিনিধিত্ব করবেন। এ সময় নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও বাবুগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান অলিদ, বাবুগঞ্জ জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।