জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা–৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেছেন, দাঁড়িপাল্লার বিজয় ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে একটি প্রভাবশালী পক্ষ এখন বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ব্যবহার করে সহিংসতা ও নাশকতার পরিকল্পনায় নেমেছে। তার দাবি, অর্থের জোরে চিহ্নিত দাগী পুরাতন সন্ত্রাসীদের আবার মাঠে নামানো হচ্ছে, যারা আগে কারাগারে ছিল অথবা আত্মগোপনে ছিল। এসব সন্ত্রাসীকে অবৈধ অস্ত্রধারীদের সঙ্গে যুক্ত করে নির্বাচনের সময় কেন্দ্রভিত্তিক হামলা, ভয়ভীতি ও নাশকতা ঘটানোর ছক কষা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কালো টাকার স্রোত বইছে এবং এর লক্ষ্য একটাই—জনগণের রায়কে বাধাগ্রস্ত করা।
শনিবার বিকেলে ফুলতলা উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক জাগরণ তৈরি হয়েছে। রাজধানী থেকে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর, দোকানদার, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও ছাত্রসমাজের মুখে এখন একই কথা—পরিবর্তন চাই। তার ভাষায়, জনগণ আর আগের মতো প্রতারণা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়, তারা এবার নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে চায়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাওয়া তিনটি দল সততা, নৈতিকতা, চরিত্র ও আমানতদারির পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে। যারা বারবার পরীক্ষায় ফেল করে, তাদের আর পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয় না। জনগণ এবার সেই ব্যর্থ দলগুলোকেই রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চায়। তার মতে, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে—তা জনগণ খুব ভালো করেই বুঝে গেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নারী ভোটারদের হিজাব খুলে নেওয়ার হুমকি, শারীরিক নির্যাতন, সভা-মিটিংয়ে হামলা এবং পীর-মুরুব্বিদের হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, এই সব ঘটনাই প্রমাণ করে যে একটি পক্ষ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় পরাজয়ের আশঙ্কায় সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। জনগণকে ভয় দেখিয়ে ভোটের ফল পাল্টানোর এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পে স্কেল সংক্রান্ত আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব দাবি যুক্তিসঙ্গত হলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন কোনো কর্মসূচি দেওয়া উচিত নয়, যাতে নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। যেকোনো দাবি নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দেশপ্রেমিক নাগরিক ও ভোটার। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচন, এই সময়ে অস্থিরতা সৃষ্টি না করাই সমীচীন। নির্বাচনের পর একটি রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে এসব দাবি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।
তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে যে, এই নির্বাচন শুধু একটি ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং সততা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি গণভোট। তিনি বলেন, জনগণ বুঝে গেছে কোন শক্তি সত্যিকারের পরিবর্তন চায় আর কোন শক্তি কালো টাকা ও সন্ত্রাসের ওপর ভর করে টিকে থাকতে চায়। দাঁড়িপাল্লার প্রতীককে ঘিরে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তা ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই বিজয়ী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ফুলতলা উপজেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা। সভা জুড়ে ছিল নির্বাচনী উত্তাপ ও পরিবর্তনের প্রত্যাশার বার্তা।