শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নির্বাচনি গণসংযোগের সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সতের বছর ধরে যেসব বিএনপি নেতাকর্মী নির্যাতন, মামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের সরিয়ে দিয়ে হাইব্রিড বিএনপি এখন মাঠ ও সাংগঠনিক কাঠামো দখল করে নিয়েছে। তার মতে, এই বাস্তবতা তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি করেছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,
নির্বাচনের দিন ধানের শীষের মিছিল করে অনেক মানুষ কেন্দ্রে যাবে, কিন্তু ভোট দেবে দাঁড়িপাল্লায়।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, মাঠের বাস্তবতায় দলীয় প্রতীকের চেয়ে জনগণের ক্ষোভ, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক অবস্থানই ভোটের ফল নির্ধারণ করবে। তার ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে যারা আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন, কারাবরণ করেছেন এবং হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তারা আজ নিজেদের রাজনৈতিক ঘরে উপেক্ষিত বোধ করছেন।
তিনি তৃণমূলের নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে নিজের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। হাসনাত বলেন, তৃণমূলের যেসব বিএনপি নেতাকর্মী নির্যাতিত ও নিপীড়িত, তাদের কাঁধে হাত রাখতে হবে। তারা কষ্টে আছে, তারা মনে করছে তাদের ত্যাগের কোনো মূল্য দেওয়া হয়নি। এই বঞ্চনার রাজনীতি চলতে থাকলে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক নৈতিকতা আরও দুর্বল হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে উঠে আসে যে, রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনকারী ও সুবিধাভোগী হাইব্রিড নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, জনগণ আর মুখের কথায় বিশ্বাস করে না, তারা দেখেছে কে মাঠে ছিল, কে নির্যাতন সহ্য করেছে এবং কে সুবিধার সময় সামনে এসেছে। এই উপলব্ধি থেকেই মানুষ ভোটের দিন নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি ত্যাগী ও নিপীড়িতদের মর্যাদা ফেরানোর লড়াই। যারা এতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তাদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়াই এই নির্বাচনের মূল চেতনা হওয়া উচিত। তার দাবি, তৃণমূলের এই চাপা ক্ষোভ নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে এবং রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করবে।
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির ভেতরের বিভাজন ও তৃণমূলের অসন্তোষ নিয়ে তার মন্তব্য নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ বাড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য ভোটের আগ মুহূর্তে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট করে তুলছে এবং নির্বাচনের গতিপথে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।