চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিম বলেছেন, ৫ আগস্ট দেশে অভ্যুত্থান হলো, ইসলামের পক্ষে সুন্দর পরিবেশ তৈরি হলো। আমি চেয়েছিলাম দেশটাকে সোনার দেশ তৈরি করব। ইসলামের পক্ষে অবস্থান মজবুত করব।
কিন্তু স্বার্থান্বষী মহল দাঁড়িপাল্লা নিয়ে এসে বলছে ন্যায়ের প্রতীক, ইনসাফের প্রতীক। এখন দাঁড়িপাল্লায় দেখছি দুইটা পাল্লা। একপাল্লায় গোপনে ভারত আরেক পাল্লায় যুক্তরাষ্ট্র। আমরা বাংলাদেশের মানুষ, ভারত আর যুক্তরাষ্ট্র ইনসাফ দেখতে চাই না।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাউফল পাবলিক মাঠে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি রেজাউল করিম বলেন, জাতীয় আর স্থানীয় নির্বাচন এক নয়। স্থানীয় নির্বাচনে যাকে দিয়ে স্থানীয় উন্নয়ন হবে তাকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। আর জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধি সংসদে গিয়ে আইন পাশ করবে, সেই আইনে দেশ চলবে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে কারা দেশে সরকার গঠন করবে আর কোন আইনে দেশ চলবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এখন পর্যন্ত জামায়াত ও বিএনপি জোট ইসলামি আইনে দেশ চালাবে বলে ঘোষণা দেয়নি। তারা স্পষ্ট বলেছে, প্রচলিত আইনে দেশ চালাবে। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন একমাত্র দল, নির্বাচিত হলে ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র চালাবে।
চরমোনাই পীর বলেন, আমরা উন্নয়নের ফুলঝুড়ি দিতে পারব না। আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিএনপি ঘর ছেড়ে পালায় আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ ঘর ছেড়ে পালায়। ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় এলে নিরপরাধ মানুষকে ঘর ছেড়ে পালাতে হবে না।
হাত পাখা প্রতীকের পক্ষে একটি ভোট বাড়লে ইসলামের পক্ষে শক্তি বাড়ে উল্লেখ করে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তোমাদের প্রথম ভোট হোক হাত পাখার প্রতীকে হোক।
এ সময় পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনের প্রার্থী মুফতি আবদুল মালেক আনোয়ারীর হাতে হাতপাখা প্রতীক তুলে দেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বক্তা মুফতি হাবিবুর রহমান মেজবাহ, কালিশুরীর পীর মাওলানা মজিবুর রহমান, কাওসার আহমেদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম প্রমুখ।