বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,
‘আমাকে কেন্দ্র করে তারা একটি মিথ্যা ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তাদের সেই মিথ্যা মিসাইল হয়ে উল্টো তাদের কপালেই পড়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর বোকা নেই যে মিথ্যাকে বিশ্বাস করবে।’
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সরকারি আরসি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যারা নিজেদের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশ চালাবে কিভাবে? তারা নিরীহ মানুষদের নামে মামলা দিয়ে খাজনাপাতি তুলেছে। মানুষ তাদের প্রতি অতিষ্ঠ।’
জামায়াত আমির বলেন, পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল এবং সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম। তবে আওয়ামী লীগ আবার পৌনে চার বছর শোষণ ও নৈরাজ্য চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ক্ষমতার হাতবদল হলেও জাতির ভাগ্যে পরিবর্তন আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশে সবচেয়ে বড় মজলুম দল জামায়াতে ইসলামী। বিচারিক হত্যাকাণ্ডসহ নানা নির্যাতনের শিকার হলেও জনগণের স্বার্থে কথা বলা তারা বন্ধ করেনি। জুলাই বিপ্লবের পরিবর্তনের পর জামায়াত কোনো নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করেনি বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, একটি বড় দলের লোক মামলা-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে লিপ্ত হয়ে মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোট অঙ্গীকারবদ্ধ। দুর্নীতির মূলোৎপাটনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, তাহলে প্রত্যেককে তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে। অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ বড় হবে উল্লেখ করে তিনি হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জের অবহেলিত জনপদের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মায়েদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তুমিও তো মায়ের সন্তান, তাহলে আরেক মাকে কেন সম্মান দিতে পার না? মায়েদের নিরাপত্তায় আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ আইডি হ্যাকের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মিসাইল ছুড়েছিল আমার দিকে, ফিরে সেটা তাদের কপালেই পড়েছে। সত্য কখনো চাপা থাকে না। যে রাজনীতি চাঁদাবাজ, হত্যাকারী, লুণ্ঠনকারী তৈরি করে—ওই রাজনীতি আমরা চাই না। তাই পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। এতদিন পাহারাদারি করেছি দলের, আপনারা সুযোগ দিলে এবার দেশের পাহারাদারি করব।’
জনসভা বেলা ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জামায়াত আমির এক ঘণ্টা আগে সকাল ১০টায় সভাস্থলে পৌঁছান। এর আগেই মাঠ জনতার ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম। সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালসহ বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। বক্তব্য শেষে বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বারসহ অন্যান্য প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।